২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন

সময়ের কণ্ঠস্বর – পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত সেই কালো রাত্রি ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবসের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শনিবার বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই জাসদ দলীয় সংসদ সদস্য শিরীন আখতার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে টিক্কা খানের নেতৃত্বে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামের সামরিক অভিযানে সংগঠিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হিংস্রতা ও বর্বরতা চিত্র তুলে ধরে দিনটিকে (২৫ মার্চ) গণহত্যা দিবস ঘোষণা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রস্তাব আনেন।

শিরীন আখতার তার প্রস্তাবে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙ্গালির জীবনে এক ভয়াবহ দিন। সেই কালো রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাপুরুষের মতো রাতের অন্ধকারে পাশবিক হিংস্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত বাঙ্গালির উপর। সামরিক শাসক ইয়াহিয়ার নির্দেশে জেনারেল টিক্কা খানের নেতৃত্বে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামের সামরিক অভিযানে সংগঠিত হয় ইতিহাসের জঘন্যতম নির্মম গণহত্যা। তাই অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে এই দিনটি শুধু আমাদের কাছেই নয়, বিশ্বের গণহত্যার ইতিহাসেরও এক উদাহরণ যোগ্য স্মরণীয় দিন। পাকিস্তানিসেনাবাহিনী, নিরস্ত্র বাঙ্গালিদের উপর সশস্ত্র হামলা করে এবং দীর্ঘ ৯মাস পাকিস্তানী সামরিক শাসকদের সহযোগীতায় জামায়াতে ইসলামী নামক দলের গঠিত রাজাকার, আল শামস, আলবদর বাহিনী যৌথভাবে ৩০ লাখ বাঙ্গালিকে হত্যা করে এবং ৩ লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হানি করে। ওই দিন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাংলাদেশের জনগণকে শুধু হত্যাযজ্ঞ শুরু করে নাই। আমাদের বাঙ্গালি জাতিসত্তাকে শ্বংস করার ব্রত নিয়ে তারা অপারেশনে নেমেছিল। জাতিসংঘের ঘোষণায় ‘জেনোসাইড’-এর যে সজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন হয়েছে সেদিন বাঙ্গালির ওপর।

songsod-gonohotta

তার এ প্রস্তাব গ্রহণ করে সংসদে এনিয়ে প্রথমেই আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি এ সময় ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি বর্বরতার স্থির ও ভিডিও চিত্র তুলে ধরার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানান। এরপর তা সংসদে প্রদর্শন করা হয়। এ নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনার পরই চলতি অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষনা করবেন স্পিকার।

এর আগে গত ২ মার্চ সংসদের বৈঠকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা দিয়ে সংসদে আলোচনা হবে। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় শহীদদের স্মরণে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উঠার পর আজকে এ নিয়ে আলোচনার দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আলোচনার পর দিবসটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে নির্বাহী বিভাগ।

স্পিকার এ সেদিন বিষয়ে সংসদকে অবহিত করে বলেন, আগামী ৯ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা শেষ হবে এবং ১১ মার্চ পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চলমান থাকবে। স্পিকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ মার্চই চলতি শীতকালীন অধিবেশন শেষ হচ্ছে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। পরে আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের তাগিদ দেন।

ওই দিনই স্পিকার জানিয়েছিলেন, অগ্নিঝরা মার্চের কোনো এক দিনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।