হঠাৎ বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে জনজীবন বিপর্যয়, ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাট জেলায় হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায়, জনজীবন হঠাৎ করে থমকে যায়। নেমে আসে বিপর্যয়। ফসলের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন সরকারী উন্নয়নকাজ ব্যাহত হয়।

বেশী বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্ররা ও দিনমজুরেরা। তবে এতে একটু লাভ হয়েছে বাদাম, ভুট্রা ও বোরো ধান চাষিদের।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। আকাশ এখন পযর্ন্ত আকাশ মেঘলা আছে। অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময়ে আলু, ভুট্টা ও পিঁয়াজ ক্ষেতে পচন ধরতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে বেড়েছে ঠান্ডা। কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা। মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হয়।

দিনের কর্মব্যস্ততা শুরু হলেও ছন্দপতন ঘটে স্বাভাবিক জীবনে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অফিস-আদালতে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুব কম। বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রাস্তায় বের হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। ঠান্ডায় দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষের চরম দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

lalmonirhat-rain

লালমনিরহাট শহরের রাস্তাঘাটে, , রাজপথ, ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, পাইকারি দোকানগুলোসহ সবখানেই জবুথবু হয়ে পড়ে জনজীবন। ফলে মানুষের চলাফেরা খুবই কম ছিল।

লালমনিরহাটে সকাল নয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লালমনিরহাট সুত্রে জানা যায়, মাঠে এখনো ৫ হাজার হেক্টর আলু ও ২ হাজার হেক্টর সরিষা রয়েছে। বৃষ্টিতে যেসব আলুখেতে পানি জমেছে, দ্রুত তা সেচে ফেলে দিতে হবে। তা না হলে কাদামাটির নিচে আলু পচে যেতে পারে। এ ছাড়া পোকার উপদ্রব ও আলুতে দাগ হতে পারে। দেরিতে লাগানো গাজরখেতেরও ক্ষতি হতে পারে।

জেলার ইটভাটায় এবার ইট পোড়ানো হচ্ছে। শুক্রবার রাতে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভাটাগুলোতে কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে ব্যবসায়ীদের।