গ্রামীন অনাগ্রসর জনগোষ্ঠীর নারীদের নিয়ে ফুটবল খেলা

fds


জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

সুযোগ পেলে গ্রামীন অনাগ্রসর জনগোষ্ঠীর নারীরাও পারে দারিদ্রতাকে জয় করতে। যেকোন কাজে পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে অগ্রসর হয়ে সমাজে অবদান রাখতে। মাঠের ক্রীড়ার মত শক্ত যেকোন কাজেও তারা সমান পারদর্শী তার প্রমানও তারা দিতে পারে। আর্ন্তজাতিক নারী দিবসে এমটাই করে দেখালেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগজ্ঞ ইউনিয়নের চার দেয়ালে আটকে থাকা আর আট পৌঢ়ে শাড়ী পরিহিতা নারীরা।

আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশন এইডের সহায়তায় উইমেন রেজিলিয়ান ইনডেক্স প্রকল্পের আওতায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আভাসের উদ্যোগে নীলগজ্ঞের পিভি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আর্ন্তজাতিক নারী দিবস। সেখানে সংস্থার সুবিধাভোগী ইউনিয়নের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই শতাধিক নারী ও কিশোরী অংশগ্রহন করে। এদিনের ক্রীড়ায় অনুষ্ঠানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, এসব অনাগ্রসর নারী ও কিশোরীদের নিয়ে ফুটবল খেলা। পূর্ন আগ্রহ আর আনন্দের বাধভাংগা উচ্ছাসে নিয়ে মাঠে নামে এসব সাধারন নারীরা। শাড়ী আর বোকরা পড়ে ফুটবল নিয়ে দৌড়ে বেড়িয়েছে সাড়া মাঠ জুড়ে। আমরাও পারি-এমন প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামা এসব নারীদের খেলা দেখে মুগ্ধ ছিল দর্শক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

ফুটবল খেলার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে লাইলী বেগম বলেন, জীবনে কোনদিন ফুটবলে লাথি মারিনি। আজ সবার সামনে মাঠে খেলতে নেমে কিছুটা জড়তা, ভয়, লজ্জা, সংকোচ আমাদের সবার মধ্যেই কাজ করেছে। তবে খেলা শুরু হওয়ার পর সব ভ’লে গিয়েছি। তবে খুব আনন্দ পেয়েছি। অতœবিশ্বাসের বিজয়ী হাসি দিয়ে হাওয়া বেগম বলেন, খেলতে নেমে বুঝতে পারলাম এ খেলাম দম লাগে। তবে আমরাও শাড়ী পড়ে দম নিয়ে খেলতে পারি। সুযোগ পেলে আমরা করতে পানি অনেক সামাজিক কাজ। রাখতে পারি সমাজে অবদান। করতে পারি দারিদ্রতাকে জয়। সাবিতা বেগম বলেন, আমরা শুধু ঘর নয় বাহিরও সামলে থাকি। সুযোগ দিলে আমরাও বিশ্ব জয় করতে পারি। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাড়ী গিয়ে সচেতনার বার্তা পৌছে দিয়ে প্রমান করেছি আমরা পারি।

প্রধান অতিধি নীলগজ্ঞ ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সমাজের অনাগ্রসর নারীদের নিয়ে আর্ন্তজাতিক নারী দিবসে একশন এইড, আভাসের এই ব্যাতিক্রমী আয়োজন নারীদের অগ্রসর হতে ব্যাপক অনুপ্রেরনা যোগাবে।