বাবুডাইং আদিবাসী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে আনন্দে মাতলেন ডাচ দম্পতি

5


জাকির হোসেন পিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

নেদারল্যান্ডস এর দম্পত্তি আন্দ্রে (৫৮) আর আতি (৫৬)। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ঘুরতে এসে শনিবার বেড়িয়ে গেলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমানায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র ভূমির গহিনে অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ‘কোল’ গ্রাম বাবুডাইং। তাঁরা বাবুডাইং আদিবাসী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দে মাতেন কয়েক ঘন্টা। বিদ্যালয়ের ছেলে শিশু শিক্ষার্থীরা দম্পতিকে ঐতিহ্যবাহী ‘দাশাই’ নেচে-গেয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে। এরপর মেয়ে শিশুরা নেচে-গেয়ে ফুলের মালা দিয়ে তাঁদের বরণ করে। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিশুদের উপযোগী ‘ঊন’ নামের মজার তাস খেলায় অংশ নেন। পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি ক্লাসে গিয়ে বসেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। অষ্টম শ্রেণির গণিতের ক্লাসে গিয়ে বীজ গণিতের সূত্র ব্যাখা করেন।

শিক্ষার্থীদের নাচ-গান, পিটি-প্যারেড উপভোগ করেন। বর্ষাকালে বোরো আবাদদের ভর মৌসুমে ধান রোপণের জন্য বিদ্যালয়ে ছুটি থাকে। ওই সময় বিদ্যালয়ের বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীরা ধান রোপণ করে পরিবারের জন্য আয় করে। এছাড়া ধান কুড়ানো, ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ ও ক্ষেত থেকে আলু কুড়ানোর সময়ও এসব শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় না। একথা শুনে আন্দ্রে ও আতি বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৫০টি দেশ ভ্রমণ করেছি। কোথাও এমন ছুটির ব্যবস্থার কথা শুনিনি। এমনটি বিস্ময়কর ও প্রশংসনীয়।

এখানকার শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে লেখাপড়া করা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন। প্রশংসনীয় বটে।’ শিক্ষার্থীদের তাঁদের একমাত্র মেয়ের ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেন, মেয়ে দেখতে বাবা না মায়ের মতো? মায়ের মতো বলায় শিশুর মতই উচ্ছাস প্রকাশ করেন আতি। মেয়ে শিক্ষার্থীরা গান শোনায়, ‘কানের দুল দিলা বন্ধু, নাকের নোলক দিলা না, ঝুমকা না দিলে বন্ধু থাকিবো না ঘরে ……।’ শুনে আতি হাসতে হাসতে বলেন, ‘অনেক দিন ঘর করলাম, আমার স্বামী এসবের কিছুই দেয়নি।’ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছবি তুলে হই-হুল্লোড় করে সময় কাটান তাঁরা। শিক্ষার্থীরাও আনন্দে মাতে তাঁদের সঙ্গে। এরপর এ বিদেশী দম্পত্তি গ্রামের একাধিক মাটির ও খড়ের তৈরী ঘর পরিদর্শন করেন।

দোভাষীর মাধ্যমে গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন।তাঁদের জীবন ও সংস্কৃতির কথা শোনেন। যাবার সময় অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, জীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ঘুরতে এসে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এ গ্রাম ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতি আমাদের মনে থাকবে। অনেক ভালো লেগেছে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষও ভালো। প্রত্যন্ত এলাকার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষদের মধ্যে বিদ্যালয় পরিচালনা প্রশংসনীয় । সফরকালে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ‘বাংলাদেশ ইকো এডভেনচার’ নামের একটি সংস্থার প্রধান মেহেদি হাসান ও কর্মকর্তা নাজিব ফেরদৌস।