বিধানসভা নির্বাচন : আলোচিত ‘লৌহমানবী’ শর্মিলার শোচনীয় পরাজয়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হেরেছেন আলোচিত অধিকার কর্মী ইরম শর্মিলা। এর মধ্য দিয়ে কার্যত শেষ হয়ে গেল ‘লৌহমানবী’ হিসেবে পরিচিত শর্মিলার অধিকার আদায়ের টানা ১৬ বছরের লড়াই। কেননা তিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনে হারলে রাজনীতি ও আন্দোলনের মাঠ দুটোই ছেড়ে সংসার জীবন শুরু করবেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে শর্মিলা দীর্ঘদিনের অনশন ভাঙেন। গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল পিপলস রিসার্জেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স (পিআরজেএ)। স্থানীয় থৌবল কেন্দ্র থেকে অংশ নেন নির্বাচনে।

কিন্তু ফলাফলে দেখা যায়, কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী ও রাজ্যের ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিংহের কাছে হেরেছেন তিনি। শর্মিলা পেয়েছেন মাত্র ৯০টি ভোট। অন্যদিকে ওকরামের প্রাপ্ত ভোট ১০ হাজার ৭৪০। এ কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিজেপি প্রার্থী লেইথানথেম বসন্ত সিংহ।

শুধু ৬৯ বছর বয়সী ওকরাম নন, রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলেও এগিয়ে আছে কংগ্রেস। মোট ৬০টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৯টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। কংগ্রেস জয় পেয়েছে ২১টি, বিজেপি ১৫টি আসনে। এনপিএফ পেয়েছে ৩টি আসন। ১০টি আসন গেছে নির্দলীয় ব্যক্তির হাতে। শর্মিলার দল পিআরজেএ এখনো ১টি আসনেও জয় পায়নি।

shormila

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে মণিপুরে বিতর্কিত সেনা আইন ‘আফস্পা’ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শর্মিলা। আন্দোলনের ভাষা হিসেবে বেছে নেন অনশন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর অনশন করে লৌহমানবী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ২০১৬ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অনশন ভাঙেন এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

কিন্তু নবগঠিত পিআরজেএ অর্থাভাবে প্রচারণা চালাতে পারছিল না। এসময় শর্মিলার পাশে দাঁড়ান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি শর্মিলার নির্বাচনী তহবিলে ৫০ হাজার রুপি দান করেন। শর্মিলার সাহায্যে এগিয়ে আসেন দলটির অন্য নেতারাও।

শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি হাসতে পারলেন না শর্মিলা। কার্যত শেষ হল ন্যায্য অধিকার আদায়ের ১৬ বছরের দীর্ঘ লড়াই। তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় আর কখনোই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় লৌহমানবী শর্মিলার ভবিষ্যত জীবন কেমন হয়।