শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি পেতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল স্বামী,এলাকাবাসী পিটিয়ে মারল স্বামীকে!

নিউজ ডেস্ক,সময়ের কণ্ঠস্বর ~ শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি কব্জায় আনতে না পেরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল স্বামী। জানাজানি হওয়ায় ওই দিনই স্বামীকে পিটিয়ে মারলেন এলাকাবাসীরা। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগরের মাগুরখালি গ্রামে। এই ঘটনায় পুলিশ আলাদা দু’টো খুনের মামলা রুজু করেছে। মৃতেরা হলেন অর্চনা মণ্ডল (৩৮) এবং তাঁর স্বামী নিমাই মণ্ডল (৪৪)। তবে স্বামী নিমাইকে পিটিয়ে মারার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

pitiya-hotta

পুলিশ জানিয়েছে, বছর ১৫ আগে নিমাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় অর্চনার। তাঁদের একটি ছোট ছেলেও রয়েছে। নিমাই অশোকনগর স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের অস্থায়ী কর্মী। বিয়ের পর থেকে সে শ্বশুর বাড়িতেই থাকতে শুরু করে। বছর খানেক হল শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তির ভাগ নিতে উঠেপড়ে লাগে নিমাই। সেই থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে ঝামেলার সূত্রপাত। প্রায় রোজই স্ত্রী অর্চনার সঙ্গে তার ঝামেলা লেগেই থাকত। ঘটনার দিনও এই নিয়েই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ওই সন্ধ্যায় মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরে নিমাই। শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার জন্য অর্চনার উপর চাপ দিতে শুরু করে। অর্চনা রাজি না হওয়ায় প্রথমে তাঁর মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে নিমাই। মেঝেয় লুটিয়ে পড়েন অর্চনা। তারপর তাঁর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় সে। কিন্তু সে সময় পাশের ঘর থেকে তাদের ছোট ছেলে চলে আসে। মাকে পুড়তে দেখে ভয়ে চিৎকার করে ওঠে। তার চিৎকার শুনেই আশেপাশের লোকেরাও চলে আসেন। হাতেনাতে ধরে ফেলেন নিমাইকে। পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

কিন্তু যতক্ষণে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় ততক্ষণে জনতার রোষ গিয়ে পড়ে নিমাইয়ের উপর। গণপিটুনি শুরু হয়ে যায়। অর্চনা এবং নিমাই দু’জনকেই উদ্ধার করে অশোকনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে চিকিৎসকেরা অর্চনাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিমাইকে রেফার করা হয় কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে। আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মার যায় নিমাইও।

উত্তর ২৪ পরগণা জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে অনেক লোক ছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেউই প্রথমে অর্চনার চিৎকার শুনতে পাননি বলে জানিয়েছেন। ফলে পুড়েই অর্চনার মৃত্যু হয়েছে নাকি আগেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। নিমাইয়ের প্রকৃত বাড়ি কোথায় তাও ঠিক করে বলতে পারছেন না শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।