নতুন যুগে পদার্পণ করল বাংলাদেশ নৌবাহিনী

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি – বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া দুটি সাবমেরিন ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ কমিশনিং করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঘাঁটি ঈশা খাঁয় সাবমেরিনগুলো কমিশনিং করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পাশাপাশি নতুন যুগে পদার্পণ করল বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

সাবমেরিন দু’টির অন্তর্ভুক্তি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের অংশ হিসেবে দু’টি সাবমেরিন কমিশনিংয়ের কাজটি মার্চ মাসে করতে পেরে আমি আনন্দিত।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দু’টি সাবমেরিনকে আধুনিকায়ন, সাবমেরিনের ক্রুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং হস্তান্তর পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে চীন বাংলাদেশের প্রতি যে অকৃত্রিম সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তার জন্য গণচীনের সরকার, নৌবাহিনী এবং সর্বোপরি গণচীনের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

shekh-hasina

বাংলাদেশের প্রথম দু’টি সাবমেরিনের ক্রু হওয়ার সুযোগ পাওয়া সাবমেরিনারদের অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নবীন ক্রু। আপনাদের লক্ষ্য হবে, সমুদ্রে সফলভাবে সাবমেরিন চালনার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে প্রকৃত অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হওয়া। পাশাপাশি নবগঠিত এই সাবমেরিন আরমকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শাখা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে নীতিমালা, অবকাঠামো এবং ইকুইপমেন্ট দরকার তা তৈরি করার ক্ষেত্রেও আপনাদের অবদান রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ‘ন্যাভাল এনসাইন’ প্রদান করেছিলেন এবং দেশের প্রয়োজনে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ‘জাতির পিতা আমাদের যে পথ দেখিয়ে গিয়েছিলেন, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আজকে এই সাবমেরিন সংযুক্ত করতে পেরেছি।

বিশ্বের গুটিকয়েক দেশেই সশস্ত্রবাহিনীতে সাবমেরিন রয়েছে। সেই কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি হতে পারায় জাতি হিসেবে আজ বাঙালি গর্বিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বানৌজা ‘নবযাত্রা’ এবং বানৌজা ‘জয়যাত্রা’ দৈর্ঘ্যে ৭৬ মিটার, প্রস্থে ৭ দশমিক ৬ মিটার। টর্পেডো ও মাইনে সজ্জিত সাবমেরিন দুটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭ নটিক্যাল মাইল এবং ডিসপ্লেসমেন্ট এক হাজার ৬০৯ টন।

নৌবাহিনীর এ দুটি যুদ্ধযান শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনে সক্ষম বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

দেড় হাজার কোটি টাকায় চীন থেকে সংগ্রহ করা হয় এই দুটি সাবমেরিন। চীনের দালিয়ান প্রদেশের লিয়াওনান শিপ ইয়ার্ডে গত বছরের ১৪ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদের কাছে সাবমেরিন দুটি হস্তান্তর করেন চীনের রিয়ার অ্যাডমিরাল লিউ জি ঝু। তবে হস্তান্তরের আগে লিয়াওনান শিপ ইয়ার্ডে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে ডুবোজাহাজ দুটির সামরিক ক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা বাড়ানো হয়।

বাংলাদেশ ও চীনের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের যৌথ তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ ও ‘সি ট্রায়াল’ শেষে গত ২২ ডিসেম্বর সাবমেরিন দুটি চট্টগ্রামে আসে।