শ্রীপুরে ৪০বছর ধরে নৈশ প্রহরী মমতাজের সরকারি বেতন খাচ্ছে অন্যজন !

Gazipur-Sripur


মোশারফ হোসাইন তযু, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে চল্লিশ বছর যাবৎ নৈশ প্রহরী  মমতাজ উদ্দিনের সরকারি বেতন ভাতা নিচ্ছে জসিম উদ্দিন। সুবিচার চেয়ে শনিবার বিকেলে মমতাজ উদ্দিন শ্রীপুর  উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করেছেন। জানা যায়, গোদার চালা গ্রামের মৃত মইজুদ্দিনের পুত্র মমতাজ উদ্দিন তেলিহাটি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে নৈশ প্রহরীর পদে চাকরি নেন।

মমতাজ উদ্দিন জানান, ২ বছর চাকরি করার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে অজ্ঞাত কারণে বিদ্যালয়ে আসতে বারণ করায় তিনি আর বিদ্যালয়ে যাননি। মমতাজ স্কুলে না এলেও তার নাম ও পিতার নাম ব্যবহার করে ওই পদে চাকরি নেয় স্কুলের শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন মাষ্টারের ছোট ভাই তেলিহাটি গ্রামের আঃ কাদির প্রামানিকের পুত্র জসিম উদ্দিন। ১৯৮২ সালের মমতাজ উদ্দিনের নাম এমপিওভুক্ত হয়। তার ইনডেক্স নং ৭২৯৯০৩। দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ জসিম উদ্দিন জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের বেতন ভাতা অবৈধভাবে ভোগ করে আসছে। মমতাজের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ জসিম উদ্দিনকে অবৈধ ভাবে বেতন ভাতা প্রদান করে আসছেন।

চলতি বছর জসিম উদ্দিনের চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। মমতাজ বলেন, ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় প্রধান শিক্ষক তাদের সাথে আলোচনা করে ঘটনার সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে জসিমউদ্দিন জানান, প্রধান শিক্ষক জানিয়েছিলেন এমপিওতে তার নাম ভুল করে মমতাজ উদ্দিন হয়েছে এবং এ নামেই স্বাক্ষর করে বেতন তুলতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মুনসুর মানিক জানান, বার বার  অডিট হলেও  বিষয়টি ধরা পরেনি। বিষয়টি অবগত হয়েছি। মমতাজ উদ্দিনের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়টি  সমাধান করা হবে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল বাতেন সরকার জানান, তিনি  বিষয়টি অবগত নন। ঘটনাটি বহু পূর্বের। অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আকতার জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তদন্তের  নির্দেশ দিয়েছেন।