সামান্য বৃষ্টিতে আড়াইহাজার পৌরসভায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি

এম এ হাকিম ভূঁইয়া, আড়াইহাজার প্রতিনিধি: আড়াইহাজারে পৌরসভায় থানার পূর্বপার্শে সম্প্রতি প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০০ ফুট লম্বা একটি ফুটপাতের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।

jolabodh

কাজটি পৌরমেয়র হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ করা হয়। কিন্তু কাজের মাত্র এক মাসের মাথায় এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পূর্বাঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার যাত্রী সিএনজিতে করে আড়াইহাজার পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আসা-যাওয়া করেন। পৌরসভায় ঢুকার পরই পানির দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সবাই।

স্ট্যান্ডে চালকরা সিএনজি রাখতে পারছে না। দেখা গেছে, প্রতিদিন নিজেদের উদ্যোগে পানি সরিয়ে তাদের গাড়ী পাকিং করতে হচ্ছে। কিন্তু পৌর মেয়রকে বারবার অবহিত করার পরও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চালকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। তবে আশার বাণী শোনালেন পৌরসভার উপ-সহকারি প্রকৌশলী। তিনি দাবী করেছেন অপরিকল্পিতভাবে কোনো কাজ করা হয়নি। ভবিষ্যতে রাস্তাটি উঁচু হবে। তাই এক ইঞ্চি নিচু করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এছাড়াও জলাবদ্ধতা নিরসনে ও পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই পৌরবাসী এর সুফল পাবেন।

আজ রবিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সিএনজি স্ট্যান্ডে পানি জমে রয়েছে। যাত্রীরা গাড়ীতে উঠতে পারছে না। একদিন বৃষ্টির পানি জমে জমে থাকে সাতদিন। পানির জন্য গাড়ী রাখা কষ্ট হয়ে পড়েছে। চালকদের অভিযোগ, পৌরসভার মেয়রকে বারবার অবহিত করার পরও তিনি কোনো প্রকার উদ্যোগ নেয়নি। তবে একবার এসে দেখে গেছেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে কয়েক গুন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক জানান, প্রকল্পের পানি জমে গেছে। এতে জনমনের নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মেয়র কোনো প্রকার পরিকল্পনা ছাড়াই মোটা অংকের টাকা খরচ করে প্রকল্প নির্মাণ করেছেন।

স্ট্যান্ডের সুপরাভাইজার মোঃ জামাল হোসেন বলেন, পানি নিস্কাশনের জন্য বেশ কয়েকবার মেয়রকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রকার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে চালকদের গাড়ী রাখা কষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার যাত্রীদের গাড়ী থেকে উঠা-নামা করা কষ্ট হয়ে গেছে।

সিএনজি চালক নজরুল বলেন, গাড়ীতে উঠা-নামা অনেক সমস্যা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে পুরো স্ট্যান্ডে জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। অতি শিঘ্রই পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করার উচিত।

জানতে চাইলে আজ রবিবার প্রতিবেদককে পৌরসভার উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলী আকরব আবির বলেন, মাটি ভরাটসহ প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। পৌরবাসীর কষ্ট লাঘবে এরই মধ্যে আরো ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফুটপাথের উন্নয়ন কাজে পরিকল্পনার কোনো ঘাটতি ছিল না। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোনো কারণে সড়কটি উঁচু না হয়। তাহলে আগামী একমাসের মধ্যে সমস্যাটি লাঘব করা হবে।