ফুলবাড়ীতে তিনদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী দোল উৎসব

অনীল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: ভারতের সীমান্ত ঘেষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর থেকে পশ্চিম উত্তরকোণে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুরে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ী।

mala

প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় জমিদার বাড়ীর সামনে বিতৃর্ন ফাঁকা মাঠে দোলের মেলা বসত। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবিরভাব ঘটে। দোল উৎসবে শ্রী কৃষ্ণ ভগবান তার সখা সখিদের নিয়ে দোলায় চড়ে আনন্দ করত। বাংলা ১৩০৪ সনে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর তারা সব কিছু ছেড়ে চলে যান ভারতের কোচবিহার জেলায়। বর্তমানে তারা কোচবিহারে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে। তবে প্রতি বছরের জমিদার বাড়ীর ঐতিহ্যবাহী দোল উৎসবটি পালন করে আসছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

শতবর্ষী দোল মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩০ থেকে ৩৬ টি দোল সওয়ারীরা বাহারি সাজে সজ্জিত হয়ে দোল মূর্তি সিংহাসনে নিয়ে ঘাঁরে করে নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ীর দোলের মেলায় অংশ গ্রহণ করত। গত শনিবার রাত ৮ টা ৫৯ মিনিটে পূর্ণিমা বর্ণি উৎসব বা গৌরাঙ্গ মহা প্রভুর আবির ভাবের মধ্য দিয়ে তিন দিন ব্যাপী এই দোল উৎসব পালিত হবে। রবিবার ঘর পূজা শেষে ভক্তরা প্রতিটি মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে দোল মূর্তি ও ভগবান শ্রী কৃষ্ণের চরণে পূজা অর্চনা ও অঞ্জলী দিয়ে শয়ন ভগবানের কাছে ভক্তরা ধাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার আবারও পূজা অর্চনা করে দুপুর সাড়ে ১২টায় দিকে দোল সওয়ারীরা বাহারি সাজে সজ্জিত হয়ে দোল মূর্তি সিংহাসনে নিয়ে ঘাঁরে করে ঐতিহ্যবাহী নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ীর দোলের মেলায় অংশ গ্রহণ করবে। এ মেলা চলবে রাত দেড়টা পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে পূঁজারী বীরেন্দ্র নাথ বর্ম্মন ও সৌরেন্দ্র নাথ গোস্মামী জানান, উপজেলার বেশির ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দোল উৎসব হিসাবে গত রোববার দিনব্যাপী উপবাস থেকে ভক্তরা শ্রী কৃষ্ণের চরণে ধাবিত হবে। মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে দোল সওয়ারীরা বাহারি সাজে সজ্জিত হয়ে দোল মূর্তি সিংহাসনে নিয়ে এই দোলের মেলায় অংশ গ্রহণ করবে।

এ প্রসঙ্গে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুশীল কুমার রায় জানান, দোল উৎসব আমাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। প্রতি বছরেই দোল উৎসবে নাওডাঙ্গা জমিদার বাহাদুর শ্রীযুক্ত বাবু প্রমদা রঞ্জন বক্সীর বাড়ীর উঠানে দোল মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনসহ ফুলবাড়ী থানার পুলিশ বাহিনী মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সহযোগিতা করবে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনর্চাজ এবিএম রেজাউল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের দোল উৎসবে তারা যেন উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করতে পারে। সে জন্য আমাদের পুলিশ বাহিনী সকাল থেকে মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত টহল অব্যাহত থাকবে।