মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে গাজরের বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

Carrots


দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় গত বছর গাজর বিক্রি করে কৃষকরা লাভ করতে না পারলেও এবার ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জয়মণ্ডপ, দুর্গাপুর, দেউলি, দশানিসহ শতাধিক গ্রামে গাজরের আবাদ হয়েছে। উপযুক্ত আবহাওয়া আর এ অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটির কারণে গাজরের ফলন ভালো হয়। এখানকার গাজর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। তবে গত বছর গাজর বিক্রি করে লাভ করতে পারেনি কৃষকরা। গাজর বীজের অধিক দামের কারণে তাদের উত্পাদন খরচ বেশি হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ে তারা। তাই গতবারের তুলনায় এবার কিছুটা কম জমিতে গাজর চাষ করেছে অনেকে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার গাজরের বাম্পার ফলন হয়েছে। গাজর বিক্রি করে ভালো দামও পাচ্ছে চাষিরা। তাই কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক গাজর চাষি জয়নাল আবেদিন জানান, এ বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে গাজরের আবাদ করেছেন। এতে তার বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে খরচ ২৫-৩০ হাজার টাকা। আর প্রতিবিঘা জমির গাজর বিক্রি করতে পেরেছেন ৪০-৫০ হাজার টাকায়। তবে বীজের দাম বেশি থাকায় তাদের উত্পাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। তিনি জানান, এ বছর এক কেজি গাজরের বীজ কিনতে হয়েছে ১২-১৫ হাজার টাকায়। অথচ আগের বছরগুলোতে গাজর বীজের দাম ছিল ৮-১০ হাজার টাকা।
কৃষকরা জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা গাজর বীজ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয়ভাবে কোনো আমদানিকারক না থাকায় ডিলাররা তাদের কাছ থেকে বীজের অধিক দাম নিচ্ছে। সরকারিভাবে বীজের দাম কমানোর দাবি করেছে কৃষকরা। একই গ্রামের কৃষক ফজলুল হক এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে গাজরের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তার মুখে হাসি ফুটেছে। তিনি জানান, ২০ বছর ধরে তিনি গাজরের চাষ করে আসছেন। আগের তুলনায় বর্তমানে গাজর বীজের দাম অনেক বেড়েছে। তাই গাজরের উত্পাদান খরচও বেড়েছে। বীজের দাম বেশি থাকায় তিনি এবার গতবারের তুলনায় দুই বিঘা জমিতে কম আবাদ করেছেন। তিনি জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব বীজ নির্ধারিত একজন ডিলারের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে। ডিলার তার ইচ্ছামতো দামে বীজ বিক্রি করছেন। সরকারিভাবে একাধিক ডিলার থাকলে বীজের দাম কমে কিনতে পারতেন বলে তিনি জানান।
এখানকার গাজর চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পাইকাররা ক্ষেত থেকে গাজর তুলে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কারের পর ট্রাকে করে নিয়ে যায়। এ বছর ঢাকার কারওয়ানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোকামগুলোতে গাজরের দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান বেপারিরা।
মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, গাজর আবাদে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। গাজর গাছে যেন ছত্রাকের আক্রমণ না হয় সে ব্যাপারে তারা কৃষকদের সতর্ক করেছেন। কৃষকরা এবার ভালো ফলন পেয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আলীমুজ্জামান মিয়া জানান, কৃষকদের বীজ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের গাজর উত্পাদন বেড়েছে। তিনি জানান, এ বছর সিঙ্গাইরে প্রায় ১২০০ হেক্টর জমিতে গাজরের আবাদ হয়েছে। আর হেক্টরপ্রতি ফলন হয়েছে ১৮-২০ টন। উত্পাদন হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টন গাজর।