আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা অভিযোগ

4bmve048dfad58o1nk_800C450


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ লিওনার্দো ভোটেলের বিদ্বেষী ও ইরান-বিরোধী বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি গতকাল (শনিবার) পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, “আমেরিকার বিবেচনাহীন ও ভুল” নীতিই হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, উত্তেজনা এবং অস্থিতিশীলতার মূল কারণ। এ নীতির কারণেই আল-কায়েদা ও দায়েশ সন্ত্রাসীদের মতো উগ্র গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কাসেমি সুস্পষ্ট করে বলেন, “মার্কিন কর্মকর্তাদের ভুল ও হস্তক্ষেপমূলক নীতির কারণেই এ অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন  কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও সংবেদনশীলতা সম্পর্কে সঠিক বুঝ ও ধারণা না থাকা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অব্যাহত দখলদারিত্বের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের মাধ্যমে তারা একের পর এক ভুল করে চলেছেন।” বাহরাম কাসেমি পরিষ্কার করে বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরির বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতান্তই মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে মার্কিন ভূমিকা গোপন করার প্রচেষ্টা।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে দেয়া বক্তব্যে জেনারেল ভোটেল বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যবাদী শক্তি হতে চায় ইরান এবং ইরানি বাহিনী ইরাক, ইয়েমেন, লেবানন, গাজা এবং সিরিয়ায় মার্কিন স্বার্থবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। এছাড়া, আগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে আমিরকার লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে।” তিনি সে সময় দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য ইরানের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হুমকি।

বাহরাম কাসেমি আরো বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরির বিষয়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনোল্ড তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় একদম খোলামেলা ও সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। গত আগস্ট মাসে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ট্রাম্প আরো বলেছিলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলছি ওবামা হচ্ছেন দায়েশের প্রতিষ্ঠাতা। আমি মনে করি, তিনি ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং তাকে সবচেয়ে মূল্যবান পুরস্কার দেব। একই কারণে হিলারি ক্লিনটনকেও আমি পুরস্কার দেব।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “আমেরিকা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সরকারের কাছে উন্নত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং রপ্তানিকারক দেশ। আমেরিকাই এ অঞ্চলে উত্তেজনা, সংকট, যুদ্ধবিগ্রহ, অনিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক গোলযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনবিদিত ভূমিকা পালন করে। মার্কিন সরকারগুলোর এসব ভূমিকা বিশ্বের সবাই সাধারণ দৃষ্টিতে দেখতে পান এবং তা তারা বিচারও করেন।”