হাতীবান্ধায় অর্ধশত শিক্ষার্থী বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার বই থেকে বঞ্চিত

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট­ প্রতিনিধি:

শিক্ষা বর্ষের ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার কেতকী বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর ভাগ্যে এখনো বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার বই জোটেনি। যথাসময়ে নতুন বই না পাওয়ার ফলাফল বিপর্যয়ের আশংকা করছে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা।

সরেজমিন ঐ বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষকের সামনেই বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার নতুন বই না পাওয়ার কথা সাংবাদিককে বলেন ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা।
এসময় প্রধান শিক্ষক বিজ্ঞান শাখার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পুরাতন বই দেওয়ার কথা বললেও, শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কোন বই পাইনি।

বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীরা, জাহিদুল ইসলাম, আকিমুল রহমান, রোমান ইসলাম, সাইয়াকুল ইসলাম এবং আমিদ আলী বলেন, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই গুলি পাননি এখনো আমরা পাইনি। অপরদিকে মানবিক শাখার প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী বলেন, এখনও আমাদেরকে মানবিক শাখার কোন বই দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান স্যারকে, আমরা বারবার বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার বইয়ের কথা বললে, উপজেলা শিক্ষা অফিসে বই নেই এই অজুহাতে তিনি আমাদের কথা এড়িয়ে যান।

সামনে আমাদের পরীক্ষা। বই না পেলে আমরা পরীক্ষা দিব কি করে। এছাড়াও পুরাতন বইয়ের সাথে নতুন বইয়ের কোন মিল নেই। ফলে আমরা বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার কোন বিষয়ের উপর লেখাপড়া করতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে এসএসসিতে আমরা রেজাল্ট খারাপ করব। এতে আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে। এখন আমরা কি করব তার উত্তরেই খুজে পাচ্ছি না।

তবে একটি গোপন সুত্রের জানা যায়, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বই আনতে যাতায়াত আর পরিবহণ খরছের ভয়ে প্রধান শিক্ষক বই আনতে চাননা।

ketkibari-high-schoolনাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বই আনার জন্য বিমল স্যার শিক্ষার্থী প্রতি ১০০ টাকা করে চেয়েছে। সেই টাকা দিতে না পারায় আমরা বই পাচ্ছিনা।

এবিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক বিমল এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে বই না থাকায় আমরা শিক্ষার্থীদের বই দিতে পারছিনা।

হাতীবান্ধা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তৈয়ব আলী বলেন, এবারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে কিছু বই কম দিয়েছে। এর পরেও আমি ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অন্যান্য বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত বই সংগ্রহ করে দেওয়ার জন্য বল হয়েছে। তিনি আরও বলে আমরা এই সপ্তাহে সব বই দিয়ে দিব।