চরফ্যাশনে চাষীদের সর্বনাশ !

এস আই মুকুল,ভোলা, সময়ের কণ্ঠস্বর :  ভোলার চরফ্যাসনে ঘূর্ণিঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে তরমুজ ও গোলআলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। গত বছরে তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছরে আরো বেশি জমি লগ্নি করে তরমুজের চাষ করেছে, কিন্তু ফলন তোলার আগেই শীলাবৃষ্টিতে তরমুজ ও গোলআলু নষ্ট হয়ে গেছে।

মহাজন আর স্থানীয় ঋনদাতা সংস্থার থেকে ৫ লাখ টাকা ঋন নিয়ে প্রায় প্রায় ১০ একর জমিতে গোলআলু চাষ করেন চর যমুনা গ্রামের বর্গাচাষী জহর লাল বেপারী । ফলনও ভালো ছিল। ফসল তোলার প্রস্তিত চলছিল। ফসল তুলবেন, বিক্রি করবেন;শোধ দেবেন ঋন। উঠতিপ্রায় ফসল নিয়ে আরও কত স্বপ্ন ছিল জহর লালের। কিন্ত ফাগুনের হঠাৎবৃষ্টি জহর লালের সব স্বপ্নগুলো পানিতে ঢুবিয়ে দেয়।

chorচরফ্যাশনের মুজিব নগর ইউনিয়নের ধলার চরে প্রায় ১৩ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেন নুরাবাদ গ্রামের কৃষক হাজি মোসলেউদ্দিন। যার মধ্যে ফসল কাটার অপেক্ষায় থাকা তিন একর জমির হরমুজের দাম উঠে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। রোববার সকালে আবাদী জমিতে ডুবে থাকা তরমুজ দেখে ক্ষেতেই মারা যান কৃষক সিরাজ উদ্দিন।
গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত কাপিয়ে তুলেছে। তরমুজ, গোলআলু, মিষ্টিআলু,চিনাবাদা, মুগডাল,হেলনডাল,খেসরিডাল, মরিচ,পিয়াজ এবং রসূনের মতো শস্য সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তরকারীর খামারগুলো ৫০ ভাগের উপর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ, ৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে গোলআলু, ৬৮০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু, ১৩ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে চীনাবাদাম, ১২ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে মুগডাল, ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ফেলনডাল, ৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে খেসরিডাল, ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ ও ২৯৫ হেক্টর জমিতে পিয়াজ চাষ হয়।