পদ্মা রেল সেতুতে অর্থায়নে চীনের সম্মতি মিলেছে

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প। চীনের অর্থায়নে জিটুজি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। দীর্ঘদিন ধরে ঋণ চুক্তি ঝুলে থাকায় নির্মাণ কাজ আটকে আছে।

pail

অবশেষে তার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে চলতি বছরই এ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে আশ্বাস করল দেশটি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একটি প্রতিনিধি দল চীন ঘুরে এসে সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অবগত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশোধিত ঋণপ্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ইআরডিতে।

এদিকে পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে জমি দিতে সম্মতির কথা জানিয়েছে সেতু বিভাগ। তবে এ জন্য অধিগ্রহণ ব্যয় গুণতে হবে রেলওয়েকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র তথ্যটি জানিয়েছে।

রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এ বিষয়ে জানিয়েছেন, পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যাপারে ‘পজিটিভ’ বলেছে চীন। এপ্রিলে ঋণ চুক্তি হতে পারে। জানা গেছে, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৯ইং সালের মধ্যে পদ্মা সেতু চালু হবে। একই দিন থেকে ট্রেন চলাচলেরও কথা রয়েছে। এ জন্য পদ্মা রেলসংযোগ নির্মাণে পৃথক প্রকল্প হাতে নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। কিন্তু অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না। তাই ইআরডির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল চীনের এক্সিম ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে। এক্সিম ব্যাংকের আশ্বাস পেয়ে ইআরডির পক্ষ থেকে রেল মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে সব অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সাপেক্ষে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২০১৭ইং সালে প্রকল্পটিতে অর্থায়নে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তা অংশের ১৫ শতাংশ চাইনিজ গভমেন্ট কনসেশনাল লোন (সিজিসিএল) এবং অবশিষ্ট ৮৫ শতাংশ দেবে প্রিফারেন্সিয়াল বায়ারস ক্রেডিট (পিবিসি)। আগে পাঠানো ঋণ প্রস্তাবে পুরোটাই ছিল সিজিসিএল। তাই প্রস্তাব দুটি সংশোধন করে পাঠাতে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেল মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ইআরডিতে। এর পরের ধাপ অনুযায়ী চুক্তির খসড়া চুড়ান্ত করে ঋণ চুক্তি করবে ইআরডি এবং চীনের এক্সিম ব্যাংক। এদিকে পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্পের জন্য মোট ৯ জেলায় এক হাজার ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে ছয়টি জেলায় অধিগ্রহণ চলমান। বাকি তিন জেলার অধিগ্রহণ প্রস্তাব প্রণয়ন করা হচ্ছে।

অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে সরকারি সংস্থা সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরও রয়েছে। আবার সেতু কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ ছাড়পত্রের ব্যপারে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেতু বিভাগ। পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলায় অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে প্রায় ৪২ একর জমি পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্পে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে উভয় সংস্থা। তবে সরাসরি জেলা প্রশাসনের পরিবর্তে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হস্তান্তরের প্রস্তাব পাঠাতে চিঠি দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে করে অধিগ্রহণ ব্যয় গুণতে হবে রেলওয়েকে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে হস্তান্তর করলে এ ব্যয় হতো না। আর সওজের ভূমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে উভয় সংস্থার যৌথ জরিপের মাধ্যমে। ইকুরিয়া থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৪ লেন নির্মাণ প্রকল্পের কারণে সওজের জমি হস্তান্তরে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

রেল সূত্র জানিয়েছে, পদ্মা রেলসংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করতে ২০ শতাংশ মোবিলাইজেশন মানি দিতে হবে ঠিকাদারকে (চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড বা সিআরইসি)। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ ৪১০২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে নির্মাণ কাজের জন্য ২৭৪২ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দ রয়েছে। এটি মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ প্রকল্পের জন্য ৩১৩৮ দশমিক ৭৫ ডলারের লোন এপ্লিকেশন চিনা দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছর বর্ষার আগে কাজ শুরু করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিলম্বের কারণে বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করতে পারা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এছাড়া যথা সময়ে ঋণ চুক্তি না হলে বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৭৪২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় করা যাবে না। আবার সময়মতো ঋণ চুক্তি ও অর্থছাড় হলে দরকার হবে অতিরিক্ত ২ হাজার ২০৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দ। পদ্মা পাড়ের বিপুল জনগণের অধীর আগ্রহের অবসান ঘটিয়ে শুভযাত্রায় ১৬ কোটি মানুষের পদ্মা সেতু চলতি মাসে শেষ হবে সার্ভিস এরিয়া নির্মাণের কাজ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈঘ্রের পদ্মা সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে ও তথাকথিত কাগজ-কলমের বন্দিদশা কাটিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়।

এই সেতুটি পৃথিবীর অন্যতম একটি সেতু হিসেবেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে স্থাপন করতে যাচ্ছে পদ্মা সেতু পাল্টে দেবে মাওয়া প্রকল্প এলাকার চেহারা। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার পর্যটন খাতে যা যোগ করবে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রকল্প এলাকায় নির্মিত সার্ভিস এরিয়াগুলোর কাজ শেষে সাধারণের জন্য খুলে দেয়া হলে তার সুফল পাবেন দেশের পর্যটন প্রেমীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মাসের মধ্যেই সার্ভিস এরিয়া নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এ যেন ধীরে ধীরে গড়ে উঠা এক নতুন শহর। অজস্র স্বপ্নকে বুকে নিয়ে যা জেগে উঠছে উত্তাল পদ্মা নদীর পাড়ে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত যে স্বপ্ন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দেশের অন্য জেলাগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক এগিয়ে যাবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। ব্যবসা-ব্যানিজ্য প্রসার হবে। দেশের অথর্নীতি আয় বাড়বে।’ তার কাজের সুবিধার জন্য মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর এবং মাদারীপুরে গড়ে তোলা হয়েছে তিনটি সার্ভিস এরিয়া। মূল সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী” দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, এর মধ্যে এক ও দুই নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় মূল সেতু, নদী শাসন প্রকল্প ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা থাকছেন। ৩ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় থাকার ব্যবস্থা হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের। আপাতত এই ৩টি সার্ভিস এরিয়া দেশি বিদেশি প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞদের আবাসন এবং গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হলেও এগুলোকে ঘিরেই পদ্মার দুইপাড়ে গড়ে উঠছে পর্যটন সম্ভাবনা।

বিশেষ করে ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়াটিকে পুরোপুরি গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটন বান্ধব করে। ৩ টি সার্ভিস এরিয়া নির্মাণে সার্বিক তদারকি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেতুর কাজ শেষ হলে ৭৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে নির্মিত ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় পর্যটকদের জন্য থাকবে আবাসনের পাশাপাশি আধুনিক সব সুবিধাই। চলতি মাসের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ করে সার্ভিস এরিয়াগুলো সেতু বিভাগের হাতে হস্তান্তর করবে সেনাবাহিনী। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় শত শত ট্রাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে নানা ধরনের নির্মাণ সামগ্রী। আসছে প্রয়োজনীয় ভারি ভারি যন্ত্রপাতি। দেশি-বিদেশি হাজার হাজার শ্রমিক আর কর্মকর্তার থাকার জন্য মাওয়া ও জাজিরা পাড়ের প্রান্তে বানানো আছে বড় বড় ঘর।

podda

একদিকে মূল সেতুর টেস্ট পাইল বসানো, প্রথম শুরু হওয়া মূল পাইলিংয়ের কাজ এগিয়ে চলছে। ৩ মিটার ব্যাসের ৪শ’ ফুট দীর্ঘ পাইলটির ৪০ ফুট ভেতরে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে নদীর মাঝে মাঝে চলছে ড্রেজিং-ও পিলার পাইলিং অন্তর অন্তর এ সেতুর পাইলগুলোর ১২০ মিটার বা ৪০ তলা ভবনের সমান কাঠামো পানির নিচে থাকবে। সব মিলিয়ে সেতুটির একেকটি পাইলের দৈর্ঘ্য হবে ১৫০ মিটার। পাইলগুলো আকারে হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেমনি এগুলো যাবে সবচেয়ে বেশি গভীরে। অন্যদিকে এই প্রথম নিজস্ব অর্থায়নে বড় কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যেটি হয়তো ইতিহাস হয়ে থাকবে। সরকারের ইমেজ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দাতা দেশগুলোর অন্যায় হস্তক্ষেপ প্রবণতা কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাওয়া পয়েন্টে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়কে থাকা ব্রিজ, সংযোগ সড়কের পাশের সার্ভিস রোড তৈরি, ড্রেজিং ও ক্ষতি গ্রস্তদের পুর্নবাসনের কাজ। ভারী ভারী নির্মাণ যন্ত্র দিয়ে চলছে পাথর ভাঙ্গা, মাটি কাটা, মাটি ভরাট করা, রাস্তা সমান করার কাজ। ওয়েল্ডিং এর আলোর ঝলকানি আর ভারী যন্ত্রপাতির শব্দে কর্মমুখর পদ্মার পাড় পাশাপাশি অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ চলছে পুরোদমে। এদিকে এ সেতুর কাজ পর্যবেক্ষণে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষঞ্জ দল এসেছিল। এই বিশেষঞ্জ প্যানেল সেতুটির দুই দিন ধরে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান থেকে বিশেষজ্ঞ টিমের অপর বিদেশী সদস্য কানাডার অস্টেন ফিল্ট ও নেদারল্যান্ড সর কারবাজাল পথে হয়ে জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ বাংলাদেশের পাঁচ জন এবং বিদেশী ৪ জন। মোট ৯ জনের এ টিম বৈঠকে ছিলেন। নতুন গতি পেয়ে পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞে দেশী-বিদেশী প্রায় ২০ হাজার কর্মীর নিরন্তর কাজ করছেন। ২০ হাজারের ১৮ হাজার বাংলাদেশী। আর দুই হাজার বিদেশী। এর মধ্যে ৫শ’ রয়েছে বিদেশী নারী কর্মী। পালাক্রমে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে তারা। এই ২০ হাজারের বাইরে নিরাপত্তায় রয়েছে দুইপারে ২ হাজার সেনা সদস্য। এছাড়া পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনতো রয়েছেই।

এর আগে উপজেলার পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়ায় সভা কক্ষে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু এখন স্বপ্ন নয়। এটি এখন দৃশ্যমান বাস্তব। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।’ পদ্মা সেতুর অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৯ শতাংশ এ সময় মন্ত্রীর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধায়ক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল হামিদুর হক (পি এস সি) ও পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
প্রকল্পের নাম— পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্প।
প্রকল্পের বিভিন্ন উপাত্তসমূহ
ক) মূল সেতু
খ) নদীশাসন কাজ
গ) জাজিরা সংযোগ সড়ক ও আনুসঙ্গিক সুযোগ সুবিধা
ঘ) মাওয়া সংযোগ সড়ক ও আনুসঙ্গিক সুযোগ সুবিধা
ঙ) সার্ভিস এরিয়া-২
চ) পুনর্বাসন
ছ) পরিবেশ
জ) ভূমি অধিগ্রহণ
ঝ) সিএসসি (মূল সেতু ও নদীশাসন)
ঞ) সিএসসি (সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়া-২)
ট) ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট এন্ড সেফটি টিম (ইএসএসটি)
মূল সেতু (৬.১৫ কি:মি: দৈর্ঘ্য)-
ঠিকাদার : চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন, চায়না।