জামালপুরের শরিফপুরে দুই গ্রামবাসীর বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদরের শরিফপুরে ক্যারাম খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাংচুর ও মামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

pahara

এসব ঘটনায় একপক্ষের লোকজন ও শিক্ষার্থীদের হাট-বাজার এবং স্কুলে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। পাল্টাপাল্টি হামলা মামলার ঘটনায় দুই প্রতিপক্ষ মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়। সংঘর্ষ এড়াতে দুই গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অস্থায়ী পুলিশ পাহারায় বসিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

সরেজমিনে শরিফপুর ও মির্জাপুর ঘুরে দেখা যায়, গত বুধবার সন্ধায় ক্যারাম খেলা নিয়ে ঘটনার সুত্রপাত। দফায় দফায় হামলা, মামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। চোখে মুখে অজানা আতংকের ছাপ। চারপাশে থমথমে পরিস্থিতি। যে কোন মুহুর্তে ফের হামলার আশংকায় শংকিত দুই গ্রামের বাসিন্দারা। দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধপূর্ণ ঘটনার প্রভাব পড়েছে পার্শবর্তী বগালী, রামপুর, নয়াপাড়া ও শীতলকুর্ষা গ্রামেও। সেসব গ্রামের বাসিন্দারাও মির্জাপুর বেপারী পাড়া হয়ে শরিফপুর বাজারে চলাচলে নিরাপত্তা পাচ্ছেনা। মির্জাপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান এ এফ এম শামস উদ্দিন ফজল ও নায়েব আলী শরিফপুর বাজার থেকে রিকাসা যোগে বাড়ী ফেরার পথে বেপারীপাড়ার লোকজন আর্তকিত হামলা করে বেধড়ক মারধর করে। এই নিয়ে মির্জাপুর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বেপারীপাড়া গ্রামের লোকজন নিজেরাই নিজেদের দোকানপাট ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে মিথ্যা মামলা দেয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকালে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে মির্জাপুর গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ।

এদিকে মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী তানজিলা আক্তার তৃষা বলেন, গত ৪ দিন যাবৎ স্কুলে যেতে পারছিনা। আমাদের গ্রামের লোকজন বেপারী পাড়ার সামনের রাস্তা দিয়ে গেলে মারধর করে। মেয়েদের ইভটিজিংসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মান সন্মানের ভয়তো সবারই আছে, নির্বিগ্নে স্কুলে যাতায়াতের দাবী জানাচ্ছি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি। তৃষার মতো আম্বিয়া আক্তার আশা, আরিফ ও খোরশেদসহ ৩ গ্রামের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে যেতে পারছেনা।

একই গ্রামের কৃষক আকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে পুলিশের সামনে দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমাদের হয়রানী করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবী জানান তিনি। সেলিনা বেগম জানান, মারামারির আগেও ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে সব সময় আতংকে থাকতাম কখন জানি হামলা ইভটিজিংয়ের শিকারের খবর আসে। সুজাউদ্দোলাহ চিশতি সুজা জানান, শান্তিপুর্ণ পরিবেশ অশান্তির করতে বেপারী পাড়ার লোকজন উঠে পড়ে লেগেছে। নানা সড়যন্ত্র করছে আমাদের হয়রানী করার জন্য। অবিলম্বে মির্জাপুর গ্রামবাসীর উপর হামলা, দোকানপাট ভাংচুরকারীদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

এদিকে বেপারী পাড়ার বাসিন্দা ইসমাঈল হোসেন জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ৫০/৬০ জনের মতো মির্জাপুরের লোকজন রামদা-লাঠি সোঠা নিয়ে বেপারীপাড়া গ্রামে অর্তকিত হামলা চালিয়ে বেশকটি বাড়ী ঘর ভাংচুরের এক পর্যায়ে নায়েব আলীর মুদির দোকানে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আবার কখন হামলা করতে আসে ভয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে আতংকের মধ্যে আছি। অগ্নিকান্ডে ভষ্মিভুত নায়েব আলীর দোকানের পার্শবর্তী দোকানী আয়শা বেগম বলেন, ঘটনার সময় দোকানের পিছনে ঘরে খাবার খাইতে ছিলাম। হঠাৎ হৈচৈয়ের শব্দ শুনে বেড়িয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কে বা কারা লাগিয়েছে আমি দেখি নাই। ওই গ্রামের আব্দুল কাদের বলেন, মির্জাপুর গ্রামের লোকজন উগ্র প্রকৃতির। পান থেকে চুন খসলেই মারামারি বাঁধিয়ে ফেলে। ওই গ্রামের সাথে র্দীঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মারামারির ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। হয়েছে একাধিক মামলাও। এই দু:স্বহ্য পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চান তিনি।

শরিফপুর ইউনিয়নের অনেকেই বললেন, এ দুই গ্রামের শত্রুতা যেন জন্ম জন্মান্তর। থামছেনা বিরোধের রেশ। কতকাল চলবে বলতে পারেনা কেউ। সহিংসতা বয়ে নিয়ে যাবে বংশ পরম্পরায়। এ পথে না হেটে শান্তির পতাকা হাতে আগামির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান দুই পক্ষের প্রতি।

জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আমিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই গ্রামের মধ্যে শান্তিপুর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে দুই গ্রামের মাঝখানে পুলিশ পহাড়া বসিয়েছি। দুই পক্ষের মামলা নেয়া হয়েছে এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।