তাহিরপুরে ১০টি মূর্তি ভাংচুরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পোষ্টার আগুনে পুরানো ও কালী মূর্তি ভাংচুরের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো কালী মন্দিরের ১০টি মূর্তি ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা।

murti-vagcur

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ সোমবার দুপুরে থানায় মামলা নং-৮ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের টুকেরগাঁও গ্রামের সার্বজনিন কালী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বর্মন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার রাত ২টায় টুকেরগাঁও গ্রামের সার্বজনিন কালী মন্দিরের নতুন তৈরি করা ১৭টি মূর্তির মধ্যে ১০টি ভাংচুর করা হয়েছে। একই ভাবে গত ৩০শে জানুয়ারী সোমবার রাত ১০টায় বাদাঘাট বাজারে প্রকাশে জঙ্গি সন্ত্রাসী হাবিব সারোয়ার আজাদ, আলম শেখ ও রাজু মিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও সজিব ওয়াজেদ জয় এর ফটো সংযুক্ত পোষ্টার ও বিলবোর্ড আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়াসহ ২রা ফেব্রুয়ারী রাত ২টায় পৈলনপুর গ্রামের সার্বজনিন কালি মন্দিরের ২টি কালি মূর্তি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৬ই ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত ১০টায় জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ঝুমুর কৃষ্ণ তালুকদার বাদী হয়ে জঙ্গি সন্ত্রাসীদের গডফাদার হাবিব সারোয়ার আজাদ, আলম শেখ ও রাজু মিয়াকে আসামী করে তাহিরপুর থানায় মামলা নং-৫ দায়ের করেন। পরে পুলিশ সন্ত্রাসী রাজু মিয়াকে গ্রেফতার করলে সে মূর্তি ভাংচুর ও প্রধানমন্ত্রীর পোষ্টার পুরানোর স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে সন্ত্রাসী হাবিব সারোয়ার আজাদ ও আলম শেখ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর গত ৭ই মার্চ সন্ত্রাসী আলম শেখ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে আসে। আর সে আসতে না আসতেই আবারো ১০টি মূর্তি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ঝুমুর কৃষ্ণ তালুকদার বলেন, সন্ত্রাসী হাবিব সারোয়ার আজাদকে পুলিশ গ্রেফতার না করলে এই ধরনের ঘটনা একের পর এক সে ঘটতেই থাকবে। টুকেরগাঁও কালি মন্দির কমিটি সাধারণ সম্পাদক বাবুল বর্মণ বলেন, মূর্তি ভাংচুরকারী সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরদাবী জানাচ্ছি। দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ আজহর আলী বলেন, মূর্তি ভাংচুরের ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, মূর্তি ভাংচুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।