শুধু এবারই নয়, আগামীতে আর কখনও আমার জন্মদিন পালন করবেন না: আসিফ

বিনোদন ডেস্ক- আগামী ২৫ মার্চ জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের জন্মদিন। আসিফ নিজ উদ্যোগে কখনও জন্মদিন পালন করেননি। তবে তার ভক্তরা এই দিনটিতে নানা আয়োজন করে থাকেন।

ওইসব ভক্তদের আগামী ২৫ মার্চ আসিফ তার জন্মদিন পালন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। শুধু এবারই নয়, আগামীতে আর কখনও যেন তার জন্মদিন পালন না করা হয় সেই অনুরোধও করেন আসিফ।

asifগণহত্যা দিবসের প্রতি সম্মান জানিয়েই তার জন্মদিন পালন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন আসিফ। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে একটি পোস্ট দেন আসিফ।

সেখানে তিনি লেখেন, ছোটবেলার স্মৃতি সবসময় অমলিন থাকে। আমরা সাত ভাইবোন, প্রত্যেকের জন্মদিন বাসায় পালন করা হতো মহানন্দে। বাসায় থাকতো আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়। কেক কাটা তো আছেই, সঙ্গে আছে ড্রইং রুমের সাজসজ্জা। প্রতিটি জন্মদিনেই থাকতো উৎসবের ঘনঘটা । এসব ইতিহাস এখন শুধুই জাজ্বল্যমান স্বপ্নের মতো।

আসিফ লেখেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ ভয়াল রাতে পাক হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাংলাদেশীদের ওপর। তারপরের ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশ। ২৬শে মার্চের স্বাধীনতা উৎসব এবং ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় উৎসব ২৫শে মার্চ ও ১৪ই ডিসেম্বর গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার করুণ ইতিহাসকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করে। উৎসবপ্রিয় মানুষ উৎসব করবে, সেটাই স্বাভাবিক, তার মানে এই নয়, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা, তাদের ভুলে যেতে হবে।

জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী আরও লেখেন, ২৫শে মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে। আমার জন্ম হয়েছে ১৯৭২ সালের ২৫শে মার্চ। গত চুয়াল্লিশ বছর সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনার মধ্যে নানাভাবে আমার জন্মদিন পালিত হয়েছে। দেশে বিদেশে আমার ‘পাগলা ফ্যানরা’ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। আমি কখনোই নিজ উদ্যোগে জন্মদিন পালন করিনি। আমার ফ্যানদের কাছে বিনীত অনুরোধ রইলো- গণহত্যা দিবসের প্রতি সম্মান জানিয়ে শুধু এবারই নয়, আর কখনোই আমার জন্মদিন পালন করা থেকে বিরত থাকুন। এতে আমাদের দেশপ্রেমের একটা উদাহরণ তৈরি হবে, আসুন আমরা গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য বুঝি। আপনাদের দোয়া সমর্থন ভালবাসাই আমার শক্তি– ভালবাসা অবিরাম !!!