নিজের দেয়া বক্তব্যে অনড় আইএস গবেষক গুণারত্নে, উড়িয়ে দিচ্ছে পুলিশ

সময়ের কণ্ঠস্বর – বহুল আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সম্পৃক্ততা রয়েছে সিঙ্গাপুরের নানীয়াং টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের অধ্যাপক ড. রোহান গুণারত্নের এমন বক্তবকে উড়িয়ে দিচ্ছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করছেন তিনি। তবে অন্য দিকে নিজের দেয়া বক্তব্যে অনড় রয়েছেন ড. রোহান গুণারত্নে।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্নের তথ্য উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ওই হামলায় আইএস এর কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। রোহান গুনারত্নে যে কথা বলেছেন তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলেও দাবি করেন তিন। আজ সোমবার রাজধানীতে ১৪ দেশের পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নিজের বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় কীভাবে এক দেশের সঙ্গে অন্যে দেশের সহযোগিতা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোলের সঙ্গেও বসার কথা জানান আইজিপি। তিনি বলেন, ইন্টারপোলের সাউথ এশিয়ান হাব বাংলাদেশে করা যায় কি-না সে বিষয়ে আলোচনা করবো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিসংগঠনগুলোর বিচরণ ঠেকাতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানান তিনি।

gunarotne

অন্যদিকে গুণারত্নে বলেন, ‘ড্যাম সিওর, গুলশান হলি আর্টিজানে হামলা করেছিল আইএস। বাংলাদেশের পুলিশ খুব ভাল করছে। কিন্তু তারা এ বিষয়টি স্বীকার করছে না। হয়তো পলিটিক্যাল কারণে তারা এ বিষয়টি স্বীকার করতে চাইছে না।

তিনি বলেন, পুলিশ বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি স্বীকার করতে চাইছে না। এর পেছনে সরকারি বা রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য হয়তো রয়েছে। আইএসকে তাই জেএমবির রিফর্ম(নব্য জেএমবি) হিসেবে বোঝানো হচ্ছে। তবে এটা স্পষ্ট যে, জেএমবির একটি অংশ আইএসের মতাদর্শে চলছে, যাদের সঙ্গে আইএসের ব্যাপক সম্পর্ক ও যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। যেমন তামিম চৌধুরী, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে।

ড. রোহান গুণারত্নে দাবি করে বলেন, আইএসের যেমন টার্গেট, তেমনই চিত্র দেখা গেছে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায়। জেএমবিকে কখনও বিদেশিদের উপর হামলা করতে দেখা যায়নি। তবে আইএস সবসময় বিদেশিদের উপর হামলা করেছে। জেএমবিরই একটি অংশ হলি আর্টিজানে হামলায় অংশ নিয়েছে। তবে আইএস মতাদর্শে বিশ্বাসী তারা। পরিকল্পনা, বুদ্ধি, কৌশল ও অর্থায়নও ছিল আইএসের।

‘আইএসের ওয়েবসাইট থেকে হামলার বিস্তারিত সব ছবি প্রকাশ পেয়েছে। এটাই স্পষ্ট করে হামলার কৌশল ও পরিকল্পনা ছিল আইএসের। তবে বাস্তবায়ন করেছে আইএস আদর্শে উদ্বুদ্ধ জেএমবির একটি অংশ।

এর আগে গত রোববার চিফস অব পুলিশ কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ড. রোহান গুণারত্নে বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় যে হামলা হয়েছিল, সেটা নব্য জেএমবি নয় বরং ইসলামিক স্টেটস (আইএস) করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে আইএসকে নব্য জেএমবি বলা হচ্ছে। আইএসের উত্থান ইরাক এবং সিরিয়া হতে পারে তবে বাংলাদেশেও আইএসের অনুসারী রয়েছে, যারা আগে জেএমবি ছিল এখন তারাই আইএস।