সাবমেরিনঃ মিয়ানমারকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর – প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো দুটি সাবমেরিন। সাবমেরিনগুলো যুক্ত হওয়ায় ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আর ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর শক্তিতে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ। এই প্রসঙ্গে সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘একটি দেশের সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে অনেক বিষয় থাকে। তার আলোকে বলা যায়, সাবমেরিনের সংযুক্তির ফলে মিয়ানমারের চেয়ে কৌশলগত দিক থেকে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশের নৌবাহিনী।’

নৌবাহিনীর পেশাদার সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ অঞ্চলে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড সাবমেরিন নেই। তবে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়ার, ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার আছে।’ রোববার চট্টগ্রাম ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে চট্টগ্রাম নৌ-জেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনে নির্মিত দু’টি সাবমেরিন ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’র কমিশনিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাবমেরিনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘এটিকে সাব-সারফেস কিলার বলে কারণ এটিকে চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। সে কারণে এটি একটি ‘ডিটারেন্স’ হিসেবে কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের একমাত্র সাফল্য তাদের একটি ছোট সাবমেরিন ভারতের একটি নৌজাহাজকে ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়।’’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি ঘোষণা দেয় সুমদ্রের একটি বড় অঞ্চলে সাবমেরিন ডিপ্লোয় করা হবে, তবে অন্য দেশের নৌবাহিনীরা সতর্ক হযে যাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনও অভিযান বা অন্য কোনও স্বার্থবিরোধী কাজ করতে।’ চীনের এ ধরনের সাবমেরিন একটানা এক মাসের বেশি পানির নিচে থাকতে পারে। এই সাবমেরিন সংযুক্তির ফলে চীনের কাছ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর হচ্ছে বলে তিনি জানান।

sabmarin

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘টাকা থাকলেও অনেক অস্ত্র কেনা যায় না। চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকায় এই সাবমেরিন কেনা সম্ভব হয়েছে।’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অনেক সদস্য চীনে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সফলতার সঙ্গে সুমদ্রের নিচে ‘ডাইভ’ দিয়েছে। চীনের অল্প সংখ্যক বিশেষজ্ঞের সহায়তায় বাংলাদেশিরাই সাবমেরিন চালাবেন। ২০১০ সালে অবসরে যাওয়া এই কর্মকতা বলেন, ‘সাবমেরিন কেনার বিষয়টি অনেকদিন ধরেই সরকারের বিবেচনায় ছিল।’

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘নৌবাহিনী এখন আগের যেকোনও সময়ের থেকে সবল। বাংলাদেশের সুমদ্রসম্পদ রক্ষায় সক্ষম। বাংলাদেশ যত উন্নত হবে, তত বেশি এর প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয় বাড়বে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কেনা যায় না।’ তিনি যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের সাবমেরিন চালানোর দক্ষতা অর্জিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে আমরা আরও শক্তিশালী সাবমেরিন কিনতে পারব।’

‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে বাংলাদেশের প্রথম দুই সাবমেরিন গত ২২ ডিসেম্বর চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। এর আগে গত ১৪ নভেম্বর এই সাবমেরিনগুলো বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চীন থেকে কেনা ০৩৫ জি ক্লাসের এ দু’টি সাবমেরিনে থাকছে নানা সুবিধা। শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনে আক্রমণ করার সক্ষমতা রয়েছে টর্পেডো ও মাইন দিয়ে সু-সজ্জিত এই সাবমেরিনগুলোর।

এগুলো ডিজেল ইলেক্ট্রিক সাবমেরিন। যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার এবং প্রস্থে ৭.৬ মিটার। নৌবাহিনীতে এই সাবমেরিনগুলো যুক্ত হওয়ার পর বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে পাহারা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।