আত্মহত্যা নয়, আত্মবিশ্বাসই সকল সমস্যার সমাধান!

নিশীতা মিতু, লাইফস্টাইল ফিচার এডিটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

আত্মহত্যা মহাপাপ। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যা যেমন পাপ তেমনি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তবুও দিনকে দিন সমাজে আত্মহত্যার মাত্রা যেন বেড়েই চলেছে। একজন মানুষের হতাশা এবং না পাওয়া যখন চরম পর্যায়ে পৌছায় এবং তিনি অনুধাবন করেন, কেবল মৃত্যুতেই মুক্তি মিলবে তখনই তিনি আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন। তবে সত্যিই কি মৃত্যুতে মুক্তি মিলে? আত্মহত্যা কি সমস্যার সমাধান দিতে পারে?

জীবনে ভালো সময় যেমন থাকে, ঠিক তেমনি খারাপ সময়ও থাকে। ভালো খারাপের সংমিশ্রণেই জীবনের সৃষ্টি। আপনার জীবনে খারাপ সময় চলছে মানে এই নয় যে আপনার জীবনে আর কখনো ভালো সময় আসবেনা। কিন্তু তাই বলে হতাশ হয়ে নিজের জীবন শেষ করে ফেলাটা বোকামি ছাড়া কিছু নয়।

একটু ভিন্ন করে ভাবুনঃ আপনি কোন একটি কাজে অকৃতকার্জ হয়েছেন কিংবা বারবার চেষ্টা করার পরও সফলতা ধরা দিচ্ছেনা। ব্যাপারটা এমন হলে আপনার চিন্তা ভাবনায় একটু পরিবর্তন আনুন। নিজেকে কিছু আলাদা সময় দিন। বুঝতে চেষ্টা করুন, আপনার নিজের কোন ভুলের কারনে আপনি ব্যার্থ হচ্ছেন কিনা।

প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য ছাত্র/ছাত্রীদের আত্মহত্যার সংবাদ আমরা দেখে থাকি। আপনি যদি শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তবে আপনার উচিত পরীক্ষার পুর্বে ভালো করে প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাতে ফলাফল খারাপ না হয়। আর নেহাৎ খারাপ ফলাফল হয়ে গেলে সেটাকে কেবল খারাপ ভাগ্য ধরে নিয়ে সামনে আগানোই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার আজকের ব্যার্থতা, আগামী দিনের সফলতায় শক্তি হয়ে কাজ করুক।

অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার জন্য পরিবার দায়ী থাকে। আপনি যদি একজন অভিভাবক হয়ে থাকেন, তবে আপনার উচিত হবে পরীক্ষার আগের সময়ে সন্তানের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখা। তারপরও খারাপ ফলাফল হলে, কখনোই মারধর বা হেয় করে কিছু বলা উচিত নয়। তাছাড়া সবার মেধাও এক নয়। আমাদের দেশের অনেক মা বাবাই মনে করে জিপিএ ৫ পেতেই হবে। যার ফলে যথেষ্ট ভালো ফলাফল করার পরও শিক্ষার্থীরা নিজেকে ব্যার্থ মনে করে এবং ভয়, লজ্জায় আত্মহত্যার মত ঘটনার জন্ম দেয়।

নিজেকে ও পরিবারকে আলাদা সময় দিনঃ অনেকে আছে প্রেমে ব্যার্থ হয়ে বা কর্মজীবনে ব্যার্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন। আপনি কাউকে ভালোবাসতেই পারেন। সেই ভালোবাসার সম্পর্ক যে কোন কারনেই ভেঙ্গে যেতে পারে। আপনি প্রতারণা, অবহেলার স্বীকার হলেন মানেই যে আপনার জীবন দিয়ে দিতে হবে তা নয়। বরং আপনি আরো একবার নিজের জীবনকে সুন্দর করে গোছানোর সুযোগ পেলেন। আপনার জীবনে এমন সময় আসলে নিজেকে একটু সময় দিন। পরিবার বা প্রিয় মানুষগুলোর সাথে সময় কাটান। দরকার হলে কয়েকদিনের জন্য একঘেয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়ে কোথাও ঘুরে আসুন। নিজের জীবনকে হনন নয়, নতুন করে সাজাতে শিখুন।

depression
হাল ছাড়বেন নাঃ আমাকে দিয়ে আর হবে না, আমি কিছুতেই পারবোনা, এভাবে কিছুতেই সম্ভব না… এই ধরণের ভাবনাগুলো মনে অবস্থান করা মানে আপনি মানসিক ভাবে খুব ভেঙ্গে পড়েছেন। আর এই অবস্থাতেই মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে মুক্তি খুঁজে নিতে চান।

আপনি কোন কাজ পারছেন না মানে যে ভবিষ্যতেও পারবেন না তা কিন্তু নয়। হয়ত কাজে কোন ত্রুটি রয়েছে কিংবা আপনি সঠিক কাজ নির্বাচনে ব্যার্থ হয়েছেন। তাই হাল ছাড়বেন না। আপনার একটি পথ বন্ধ হয়ে গেলো মানে বেশ অনেকগুলো পথ খুলে গেলো। সেই পথগুলো খুঁজে বের করার জন্য দরকার কেবল ধৈর্য আর নিজের প্রতি আস্থা।

একজন মানুষ যখন জীবন নিয়ে প্রচন্ড পরিমাণে হতাশ হয়ে পড়েন তখন কোণ প্রকার নীতিবাক্যই তাকে তার সিদ্ধান্ত থেকে ফেরাতে পারেনা। তাই, আপনার নিজেকে বুঝানোর দায়িত্ব মূলত আপনার নিজেরই। খারাপ সময়ে নিজেকে শক্ত রাখুন, মনকে অন্যদিকে ব্যাস্ত রাখুন। ধর্মীয় কাজে মন দিন। মনে প্রশান্তি মিলবে। মনে রাখবেন, আত্মহত্যা কখনোই একজন মানুষের জীবনে কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারেনা।