তুরস্ক এবং নেদারল্যান্ডসের কূটনীতিক সম্পর্ক চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  তুরস্ক এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার মাত্রা বেড়েই চলেছে। শনিবার তুরস্কের এক নারী মন্ত্রীকে রটারডামের তুর্কি কনস্যুলেটে ঢুকতে না দিয়ে তাকে পুলিশ দিয়ে সীমান্তের বাইরে বের করার ঘটনায় চরম ক্ষিপ্ত হয়েছে তুর্কি সরকার।

তারা বলেছে, নেদারল্যান্ডস ভিয়েনা সনদের অর্থাৎ কূটনীতিকদের অধিকার ভঙ্গ করেছে। তুরস্কে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবে আসন্ন এক গণভোটের আগে ইউরোপ-প্রবাসী তুর্কিদের মধ্যে প্রচারণা চালাতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। কিন্তু ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তাতে বাধা দিচ্ছে।

তুরস্ক এই বিবাদ থেকে নিজেকে সরিয়ে না নিয়ে বরং তারা আঙ্কারায় ডাচ শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে পাঠিয়ে দাবি করেছে নেদারল্যান্ডে যেভাবে তুরস্কের মন্ত্রীদের আটকে দেয়া হচ্ছে, সভা ভেঙে দেয়া হচ্ছে -তার জন্য লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

তুর্কি সরকারের অভিযোগ: তুরস্কের পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়াকে রটারডাম শহরে তুর্কি কনসুলেটে ঢুকতে দেয়া হয় নি। এর পর তাকে এরদোয়ান সমর্থকদের সমাবেশে ভাষণ দিতেও দেয়া হয় নি।

এর মধ্যে দিয়ে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে তুরস্ক বলছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান নিজের হাতে আরো ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে সে দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি চালু করতে চাইছেন এবং আগামী মাসে এর ওপর একটি গণভোট ডেকেছেন।

এর জন্য তিনি প্রচারাভিযান চালাতে চান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যে তুর্কিরা বাস করেন তাদের মধ্যে। কারণ ওই গণভোটে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে মি. এরদয়ানের এই ভোটগুলো দরকার। কিন্তু রটারডামে এ ধরণেরই একটি সমাবেশ ভেঙে দিতে কুকুর ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করেছে ডাচ পুলিশ। ডাচ সরকার মনে করছে, এসব সমাবেশ হতে দিলে তা সে দেশে জাতীয়তাবাদী মনোভাব উস্কে দেবে। কিন্তু এর ফলে তুরস্কের সরকারপন্থী মিডিয়াতেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

মি. এরদোয়ান যেভাবে ডাচ কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে নাৎসি মনোভাবের অভিযোগ এনেছেন, সংবাদপত্রগুলো এ নিয়ে ‘নাৎসি ডাচ কুকুর’ এ ধরণের শিরোনাম করেছে। শুধু নেদারল্যান্ডসই নয়, ইউরোপে জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ার মতো বেশ কয়েকটি দেশই তুর্কিদের এই ধরণের সমাবেশ করতে দেয় নি।