ইসলামের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার জন্য আল্লাহমূখী জীবন গঠন করতে হবে- ছারছীনার পীর ছাহেব

trt


সৈয়দ বশির আহম্মেদ, পিরোজপুর প্রতিনধি:

আমীরে হিযবুল্লাহ, মুজাদ্দিদে যামান ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (মা.জি.আ) বলেছেন- প্রতিটি ঘরে ঘরে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য সকলকে বেশি বেশি নেক আমল করতে হবে। কারণ আমলী ব্যক্তি যখন মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেন তখন সেই দাওয়াতে বেশি কাজ হয়। আর আমলহীন দাওয়াতের মধ্যে কোন প্রাণ থাকে না। আর এজন্য প্রয়োজন পীরের নির্দেশ মেনে এবং নিয়তকে ঠিক করে নিয়মিত আল্লাহর জিকির করা।

পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- পীরের কাছে আপনারা এসেছেন আল্লাহকে পাওয়ার জন্য পীরকে নয়। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পীরের প্রতিটি নির্দেশ পালন করা মুরীদের জন্য একান্ত কর্তব্য। পাশাপাশি সুন্নাতের আমল করাও অতীব প্রয়োজন।
গতকাল ছারছীনা দরবার শরীফের ১২৭ তম বার্ষিক ঈছালে ছওয়াব ওয়াজ মাহফিলের শেষদিন বাদ জোহর আখেরী মুনাজাতপূর্ব আলোচনায় হযরত পীর ছাহেব কেবলা একথা বলেন।

হযরত পীর ছাহেব কেবলার বড় ছাহেবজাদা আলহাজ ¡ শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দিন আহমদ হুসাইন বলেন- ছারছীনা দরবার দলীয় রাজনীতি মুক্ত একটি হক্কানী দরবার। এ দরবার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দরবার। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ দরবারেই মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়ে ছিল। মরহুম পীর ছাহেব আল্লামা শাহ্ সূফী আবু জাফর মোহাম্মদ ছলেহ (রহঃ) সর্বপ্রথম নিজ থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০০০/- টাকা দান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যখন মাদ্রাসাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশেই এ মাদ্রাসা খুলে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে মরহুম পীর আল্লামা শাহ্ সূফী আবু জাফর মোহাম্মদ ছলেহ (রহঃ) এর সাথে খুবই নিবিড় সম্পর্ক ছিল।

ডেপুটি স্পিকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন- আমরা ভালো মানুষ হবো। কিন্তু ভালো মানুষ হতে হলে ভালো মানুষ তথা আল্লাহওয়ালাদের ছোহবতে আসতে হবে। যারা আল্লাহওয়ালা তারা আল্লাহর রহমতে জীবন পরিচালনা করে। তাদের কেউ ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। যে ক্ষতি করতে চাইবে সেই ধ্বংস হইবে। ছারছীনা দরবার একটি আদশৃবাদী হক্ব দরবার। এখানে আসলে মানুষ আল্লাহওয়ালা হওয়ার সঠিক দীক্ষা পেয়ে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সালমান এফ. রহমান বলেন- সারাবিশ্বে এখন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হচ্ছে। এর পিছনে নামধারী মুসলমানরাই মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। ইসলামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তারা মুসলমান হয়ে মুসলমানের সাথে ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিচ্ছে। এসব অসৎ গুণাবলী থেকে আত্মসংশোধনের মাধ্যমে খাঁটি মুসলমান হওয়ার জন্য ছারছীনার ন্যায় হক্কানী পীর-মাশায়েখদের ছোহবতে আসতে হবে।

তিনদিনব্যাপী মাহফিলে আরও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব শামসুল হক টুকু, ছারছীনা আলিয়া মাদ্রাসার গভর্নিং বডির ভাইস চেয়ারম্যান ও আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম. এম. এনামুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোঃ আফজাল হোসাইন, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্বক এ. কে. এম. এ. আউয়াল, ঝালকাঠীর সংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অজনাব আলহাজ্ব বজলুল হক হারুন, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার আলহাজ্ব মোঃ গাউস, বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম শেখ, পুলিশ সুপার মোঃ ওয়ালিদ, নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়ীদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লাভলু আহমেদ, স্বরূপকাঠী পৌর মেয়র গোলাম কবির প্রমূখ।

পরিশেষে হযরত পীর ছাহেব কেবলা মীলাদ-ক্বিয়াম শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ কামনা করে আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আমীন আমীন ধ্বনীতে আকাশ-বাতাস মুখরীত হয়ে যায়।