সাবেক এমপি ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতার বাড়িতে চুরির অভিযোগে শিশুকে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদের শহরের পাঠানপাড়ার বাড়িতে এক শিশুকে কবুতর চুরির চেষ্টার অভিযোগে সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খাইয়ে কব্জি পিছমোড়া করে বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

সাংসদের বাড়ীতে গ্রীলের সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দুপুর থেকে দাড়িয়ে থাকা শিশুটি (১২) সন্ধ্যা ৬ টায় সাংবাদিকদের জানায় তার নাম আলিম। সে পৌর এলাকার মিলকি বাগানপাড়া এলাকার মজিবুর ওরফে খালেকের ছেলে।

শিশুটি জানায়, বেলা ১১ টার দিকে সদর উপজেলার আতাহির দক্ষিন শহর এলাকায় সাংসদের বাথান বাড়ী থেকে তাকে আটক করে শহরের বাড়ীতে নিয়ে এসে বেঁধে রাখে সাংসদের লোকজন। ধারের ৯০ টাকা শোধের জন্য এ সময় সে সেখানে লাঠি দিয়ে কবুতর চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পরে বলেও স্বীকার করে শিশুটি ।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ রাত আটটার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে সদর থানায় নিয়ে যায়।

শিশুটিকে অমানবিকভাবে দীর্ঘ সময় বেঁধে রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে  সাবেক সাংসদ হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর খামার বাড়িতে কবুতর চুরির চেষ্টা করার সময় শিশুটি বর্গাচাষিদের হাতে ধরা পড়ে।

এরপর শিশুটিকে তাঁর শহরের বাড়িতে নিয়ে আসলে তাকে লোক দিয়ে থানায় পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে শিশুটিকে আবার তাঁর বাড়িতেই ফেরৎ পাঠায়। আমি বিকেলে বাড়ির বাইরে গেলে বাড়িতে আর কেউ না থাকায় শিশুটি আবার যদি কোন অঘটন ঘটায় এটা ভেবে বাড়ির নিরাপত্তার স্বার্থে শিশুটিকে বেঁধে রাখা হয়।

এ ছাড়া তখন পর্যন্ত শিশুটির পরিচয় ও ঠিকানাও পাওয়া যায়নি। থানা শিশুটিকে গ্রহণ না করার বিষয়টি এসপিকে জানানো হয়েছিল বলেও জানান সাবেক সাংসদ।

এদিকে, শিশু আলিমও জানায় তার অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর না পাওয়ায় তার অভিভাবকদের খবর দেয়া যায়নি।

সন্ধ্যায় বাড়ীর গ্রীলঘেরা নীচতলায় শিশু আলিম ও আরেক শিশু গৃহকর্মী ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।

capai-child-tourcher

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম গভীর রাতে জানান, হারুনুর রশিদ তাঁর লোক মারফৎ শিশুটিকে থানায় পাঠালে ওই লোককে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়। কিন্তু লোকটি অভিযোগ না দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে চলে যায়।

পুলিশ রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার অভিভাবকদের খুজতে শুরু করে।  গভীর রাতে তার অভিভাবকদের থানায় আনা হয়। কিন্তু রাতে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়নি। ওসি জানান, শিশুর অভিভাবকরা শিশুটিকে বেঁধে রাখার ব্যাপারে অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।