শাহরুখ খানের অফুরন্ত এনার্জি: শ্রিয়া সরণ

বিনোদন ডেস্ক- আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছর ছ’য়েক আগে দেখা গিয়েছিল শ্রিয়া সরণকে। তার পরে তাঁকে আর দেখা যায়নি। তিনি কি ফের ফিরতে চান আইপিএলে? আইপিএল, ক্রিকেট, ফুটবল নিয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তাই বা কী? এবেলার কৃশানু মজুমদারকে সেই কথা বললেন শ্রিয়া।

201509111433372798_1_15854_L_galVPF.gifপ্রশ্ন: বছর ছয়েক আগে আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আপনি পারফর্ম করেছিলেন। আপনার সঙ্গে সেবার মঞ্চে ছিলেন কলকাতা নাইটরাইডার্সের মালিক শাহরুখ খানও। আপনারা দু’ জনে মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলুন।

শ্রিয়া: শাহরুখ খানের সঙ্গে পারফরম্যান্স মানেই আলাদা একটা ব্যাপার। সেবারের আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল চেন্নাইয়ে। অন্য ভাষার গানের সঙ্গে পারফর্ম করা কঠিন। কিন্তু ও তো শাহরুখ খান! সব সময়ে নিজের সেরাটা দেয়। তার জন্য নিজেকে পুরোদস্তুর তৈরিও করে। সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে ছোটখাটো রিহার্সাল সেরে নিয়েছিল শাহরুখ। তার পরে মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিল। শাহরুখকে দেখে অনেককিছু শেখার আছে। ওর অফুরন্ত এনার্জি। কোথা থেকে যে এত এনার্জি পায়, তা শাহরুখই ভাল বলতে পারবে। আমি ভবিষ্যতে শাহরুখের সঙ্গে কাজ করতে চাই।

প্রশ্ন: সেই যে বছর ছ’য়েক আগে আইপিএলের উদ্বোধনী মঞ্চে নামলেন, তার পরে তো আপনাকে আর আইপিএলের উদ্বোধনে দেখাই গেল না?

শ্রিয়া: আমি আবারও আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে চাই। আইপিএল মানেই প্রাণচঞ্চল একটা ব্যাপার স্যাপার। সবাই হুল্লোড়ে মেতে থাকে। মাঠের ভিতরে ক্রিকেটাররা নিজেদের নিংড়ে দেয়। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরাও দারুণ উপভোগ করে খেলাটা। আইপিএল পুরোদস্তুর একটা প্যাকেজ। বিনোদন আর খেলা মিলেমিশে একাকার। এরকম একটা মঞ্চে সবাই পারফর্ম করতে চায়। আমিও আবার ফিরতে চাই। সেবার যেমন ধামাকাদার পারফরম্যান্স দিয়েছিলাম, কাগজপত্রে লেখা হয়েছিল মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিয়েছি, আবারও সেটাই করতে চাই।

প্রশ্ন: আপনি খেলাধুলো বেশ পছন্দ করেন। ক্রিকেটে আপনাকে দেখা যায়। আবার ফুটবলেও রয়েছেন।

শ্রিয়া: সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে আগে ছিলাম। এখন অবশ্য বেশি সময় পাই না। তাই এখন আমি আর নেই সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে। আসলে আমাদের বন্ধুবান্ধবরাই তো সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে খেলে। ক্রিকেট আর সিনেমা জগৎ হাত ধরাধরি করে হেঁটেছে চিরকাল। সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগেও তাই সেলিব্রিটিদেরই ভিড়।

প্রশ্ন: আর ফুটবলে?

শ্রিয়া: আমি ব্লাইন্ড ফুটবল টিমের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাড়র। কেন ব্লাইন্ড ফুটবল টিমের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছি, তার পিছনে একটা কারণ অবশ্য রয়েছে।

প্রশ্ন: কী কারণ?

শ্রিয়া: মুম্বইয়ে আমার একটা এনজিও রয়েছে। তার নাম স্পান্দনা। এই এনজিও-র বয়স পাঁচ বছর। এখানে স্পা থেরাপিও করা হয়। আমার স্পা ক্লিনিকে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা সবাই অন্ধ। জানেন তো, যাঁরা অন্ধ হন, তাঁদের হাতটাই চোখ। এই অন্ধ মানুষগুলো খুব ভাল কাজ করছে। ওঁরা ধীরে ধীরে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে উঠছে। এটাই তো দারুণ ব্যাপার।

প্রশ্ন: ক্রিকেট নিশ্চয়ই খুব প্রিয় খেলা?

শ্রিয়া: ক্রিকেট খুব ভালই লাগে। বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বও রয়েছে। ওদের সঙ্গে দেখা হলে আড্ডা মারি। তবে কাজের চাপে খুব বেশি ক্রিকেট দেখা হয় না। সময় সুযোগ পেলে বসে পড়ি ক্রিকেট দেখতে। সত্যি কথা বলতে কী, টেস্ট, ওয়ানডে-র থেকে আইপিএল দেখতে ভাল লাগে। এবারও সময় পেলে আইপিএল দেখব।

প্রশ্ন: বিশ্বদ্ধবাদীরা কিন্তু আইপিএল বা টি টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রিকেটকে খুব একটা পাত্তা দেন না।

শ্রিয়া: দেখুন, খেলতে নেমে ব্যাটসম্যান চার-ছক্কা মারবে, সেটাই দেখতে সবাই পছন্দ করেন। সবাই সেটাই দেখতে চান। টি টোয়েন্টি ক্রিকেট বলুন বা আইপিএল— দু’টোতেই ধামাকা দেখা যায়। চার-ছক্কার বন্যা বয়ে যায় মাঠে। এটাই তো সবাই দেখতে চান। তাহলে কেন আইপিএল বা টি টোয়েন্টি জনপ্রিয় হবে না আপনি বলুন?

প্রশ্ন: আপনার পছন্দের ক্রিকেটার কে?

শ্রিয়া: এভাবে কাউকে পছন্দের বলা সম্ভব নয়। ক্রিকেট বলুন বা ফুটবল — দুটোই টিমগেম। একজনের পারফরম্যান্স দিয়ে তো জেতা সম্ভব নয়। জিততে হলে একটা টিম হিসেবে খেলতে হয়। তাই এক-আধজনের থেকে গোটা দলটাকেই সমর্থন করা উচিত বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন: আপনি তো বিভিন্ন ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন। শাহরুখ খানের কথা বললেন। অন্য ভাষার গানে পারফর্ম করাটা কঠিন বললেন। তেমনই আপনারও নিশ্চয়ই সমস্যা হয় বিভিন্ন ভাষার ছবিতে কাজ করার সময়ে?

শ্রিয়া: সমস্যা হবে কেন? এটাই তো আমার পেশা। পর্দায় চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রচুর অনুশীলন করতে হয়। অন্য ভাষাগুলোও আমাকে শিখতে হয়েছে। অনেক সময় খরচ করতে হয়েছে। সবকিছুর পিছনেই আপনাকে সময় দিতে হবে।

প্রশ্ন: আচ্ছা ধরুন ভূতের রাজার কাছে আপনাকে তিনটি বর চাইতে বলা হল। কী বর চাইবেন?

শ্রিয়া: ওভাবে গুনে গুনে বলতে পারব না। তবে সবাই যা করতে চায়, আমিও সেটাই করতে চাইব। আরও ভাল কাজ করতে হবে। নিজেকে কাজে ডুবিয়ে দিতে হবে। আমার এনজিওটা যাতে আরও ভাল কাজ করে, সেদিকে আমাকে নজর দিতে হবে।