সাবমেরিনের পর এবার রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক ৫ হেলিকপ্টার কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – গেল রোববারই (১২ মার্চ) ত্রিমাত্রিক শক্তিতে রূপ নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী। কেননা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চীন থেকে আনা আধুনিক দুই সাবমেরিন (ডুবো যুদ্ধজাহাজ) নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। আর এরই মধ্য দিয়ে সাবমেরিন যুগে পদার্পণ করে বাংলাদেশ। সেই যুগে প্রবেশ করার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি সুসংবাদ হল, সাবমেরিনের পর এবার রাশিয়া থেকে পাঁচ অত্যাধুনিক এমআই-১৭ হেলিকপ্টার কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নৌবাহিনীর পর এবার আকাশ পথে শক্তি বাড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

হেলিকপ্টার কিনতে মস্কোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে এ একথা জানান। তিনি বলেন, এ হেলিকপ্টারগুলো কেনার পর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাজে লাগানো হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ১১ থেকে ১৩ এপ্রিল দ্বিপাক্ষিক সফরে রাশিয়া যাবেন। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের বাংলাদেশ সফরের কথা চলছে। তখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এমআই ১৭ হেলিকপ্টার রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক এক সামরিক হেলিকপ্টার। এটি এম আই-৮ হেলিকপ্টারের এক্সপোর্ট ভার্সন। অত্যন্ত দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় বৈরি পাহাড়ি পরিবেশে এই হেলিকপ্টার নির্বিঘ্নে ওঠানামা করতে সক্ষম। রাশিয়ার কাজান (kazan)ও উদেতে (Ude)দুটি কারখানায় এই সামরিক হেলিকপ্টার নির্মাণ করা হয়। বিশ শতকের আশির দশকে আফগান যুদ্ধে অত্যন্ত বৈরি পার্বত্য পরিবেশে এই হেলিকপ্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। হেলিকপ্টার গানশিপ হিসেবে যেমন তেমনি মালামাল ও সৈন্য পরিবহনের কাজেও এই হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হয়।

ভারত, আলজেরিয়া, মরক্কো, চীন, আফগানিস্তান ও ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্রবাহিনী এই সামরিক হেলিকপ্টারের ক্রেতা। সম্প্রতি রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা স্পুতনিক (Sputnik) জানিয়েছে, তারও আগে রাশিয়ার কাছ থেকে আটটি যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ। সেদেশের শীর্ষস্থানীয় বিমাননির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউএসি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই আটটি যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে।

russian-army-halicopter

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের(আইএসপিআর)পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান গত ৬ মার্চ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, যুদ্ধবিমান কেনার জন্য সম্প্রতি একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন। রাশিয়া থেকে বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনার ঘটনা নতুন নয়।

১৯৯৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আটটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই সময় থেকে চুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ১ কোটি ১০ লাখ ডলারে কেনা হয়। সাজসরঞ্জামসহ প্রশিক্ষণ, পরিবহনসহ আটটি বিমানের জন্য মোট ১২ কোটি ৪ লাখ ডলার ব্যয় হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় ছিল ৫৭৫ কোটি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বিমানগুলো বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো আর বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার দেয়া ঋণে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার (১০০ কোটি ডলার) সমরাস্ত্র কিনেছিল। মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ বৈঠকের পর এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর জন্য ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্র কেনা হয়।

এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিমানবাহিনীর জন্য চীন থেকে কেনা হয় স্বল্প পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা পদ্ধতি (এসএইচওআরএডি)। এ সময় এফ-৭ বিমানের জন্য চীন থেকে এবং মিগ-২৯ বিমানের জন্য রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে চতুর্থ প্রজন্মের ১৬টি যুদ্ধবিমান এফ-৭ বিজি ১ এবং রাশিয়ার তৈরি সামরিক হেলিকপ্টার কেনা হয়।