বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: বারবার সময় চাওয়ায় বিব্রত বিচারপতি

সময়ের কণ্ঠস্বর – অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট জারিতে সরকারকে ফের দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপলি বেঞ্চ এ সময় মঞ্জুর করেন। তবে সরকার বারবার সময় চাওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন প্রধান বিচারপতি।

এর আগে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবু্বে আলম। লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৩ ফেব্রুয়ারি শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নে দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন আপিল বেঞ্চ। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পরও শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আবারও সময়ের আবেদন জানায়। এ প্রেক্ষিতে আরও দুই সপ্তাহ সময় দেন আদালত।

মঙ্গলবার শুনানিকালে এস কে সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশ্যে বলেন, বিচারকদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ নিয়ে বারবার সময় নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কতবার সময় নেওয়া হবে।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, দেশ কি আটকে আছে? দেশ কি চলছে না? রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তি কিছু নয়, প্রতিষ্ঠানই বড়। বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। আর সময় দেওয়া যাবে না।

sk-sinha

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দুই সপ্তাহের সময় চান। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সময় দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, মন্ত্রণালয় আমাকে জানিয়েছে, রুলস প্রণয়ন করবেন রাষ্ট্রপতি। শিগগিরই বিধিমালা জারি করা হবে। দুই সপ্তাহ চেয়েছি। আশা করি, এ সময়ের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসন হবে। পরে আদালতে দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতে বিচারকদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশে সংশ্লিষ্টদের আরো দুই সপ্তাহ সময় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই দিন বিষয়টি আদালতে উপস্থাপিত হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময়ের আবেদন পেশ করেন। এই আবেদন গ্রহণ করে ১৪ মার্চ শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়।

উল্লেখ্য, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকে মাসদার হোসেন মামলায় ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া বিধিমালা প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই বিধি সংশোধন করে তা গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ দেন।