সন্দেহের তীর নিহত নারী মুরিদের স্বামীর দিকে!

দিনাজপুর (বোচাগঞ্জ প্রতিনিধি) :

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে কথিত পীরসহ দুজনকে হত্যার ঘটনা নিয়ে জোর তদন্তে নেমেছে আইন- শৃংখলা বাহিনী।  প্রাথমিকভাবে  ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তবে একটি নির্ভরযোগ্য তদন্তসুত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি মোটিভ ঘিরে তদন্ত শুরু হলেও বর্তমানে সন্দেহের তীর  নিহত নারী মুরিদ রুপালী বেগমের স্বামী সিরাজুল ইসলামের দিকেই। ঘটনার পর থেকেই কোথাও খোঁজ মিলছেনা সিরাজুলের। মাত্র ৩ দিন আগে দরবারে রূপালী বেগমের বিয়ে হয় সিরাজগঞ্জ থেকে আগত সিরাজুল ইসলাম নামে এক কথিত মুরিদের সাথে।

নিহত কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। তার বাড়ি দৌলা গ্রামে। নিহত রুপালী বেগম মাধবপুর গ্রামের হসের আলীর মেয়ে এবং ফরহাদ হাসান চৌধুরীর পালিত মেয়ে। নিহত রুপালী বেগমের পরিচয় নিয়ে দুধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, তিনি নিহত ফরহাদ চৌধুরীর মুরিদ। আর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার বলেছেন, রুপালী ফরহাদ হোসেনের গৃহকর্মী ছিলেন।

খবর ছড়িয়ে পড়লে দরবার শরীফের মুরিদসহ অসংখ্য জনতা ঘটনাস্থলে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, বোচাগঞ্জের দৌলা গ্রামে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন বিএনপি’র সাবেক নেতা ফরহাদ হোসেন চৌধুরী। এই দরবার শরীফে অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত নিয়মিত মাহফিল ও ধর্মীয় আলাপ আলোচনা হয়। সেখানে আগত মুরিদরা সবাই ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে বাবা বলে ডাকেন।

এলাকাবাসী জানান, ২০১০ সালে কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন ফরহাদ হোসেন। এরপর তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন। তিনি নিজেকে পীর বলে দাবি করতে শুরু করেন। দরবার শরীফে অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত নিয়মিত মাহফিল ও ধর্মীয় আলাপ-আলোচনা করতেন, যারা সবাই ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে বাবা বলে ডাকতেন। ঘটনার তিনদিন আগে নিহত রূপালী বেগমের বিয়ে হয় সিরাজগঞ্জ থেকে আগত সিরাজুল ইসলাম নামে এক কথিত মুরিদের সঙ্গে। তবে ঘটনার পর থেকে সিরাজুল নিখোঁজ রয়েছে।

দরবার শরীফের খাদেম সাইদুর রহমান ও মুরিদ জনি জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে দরবার শরীফে এসে তারা দেখেন বাবা ফরহাদ হোসেন চৌধুরী বিছানায় শুয়ে আছেন। এরপর তাকে ডাকতে গিয়ে বিছানায় এবং শরীরে রক্তের চিহ্ন দেখে তারা নিশ্চিত হন যে, কে বা কারা তাকে হত্যা করে পালিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মালেক হোসেন জানান, সন্ধ্যার দিকে কয়েকজনকে মোটরসাইকেল যোগে চলাফেরা করতে দেখেছেন তারা। তবে বিষয়টিতে তেমন কোনও গুরুত্ব দেননি। হয়তো তারা এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

দরবারে পীর খুনের ঘটনায় দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হামিদুল আলম রাত ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কারা কি উদ্দেশে তাদের হত্যা করেছে তা বের করা হবে। তিনি আরো জানান, ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি শত্রুতামূলকভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে কিনা সেটাও দেখছে পুলিশ।

বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল হক প্রধান জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। সোমবার রাতেই লাশ উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

pir-murder

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনাটি আলোচিত হওয়ায় পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ

কথিত পীর ও নারী মুরিদের হত্যাকান্ড নিয়ে বাড়ছে গুঞ্জন! খুলছেনা রহস্যের জট!

বিএনপি’র ডাকসাইটে নেতা থেকে কথিত পীর! অতঃপর নৃশংস হত্যার শিকার! নেপথ্যে যত রহস্য