খালেদা জিয়াকে ‘শেষবারের মতো’ সময় দিলেন আদালত

সময়ের কণ্ঠস্বর- রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে শেষবারের মতো সময় দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে করা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এমন আদেশ দেন আদালত।

khaleda20161201042605মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে হাজিরার দিন ধার্য ছিল বেগম খালেদা জিয়ার। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে খালেদা আদালতে হাজির হতে না পারায় তার পক্ষে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবীরা।

আদালত শেষবারের মতো সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে হাজিরার জন্য ২৮ মার্চ দিন ধার্য করেন।

বিচারক আদেশে বলেন, সেদিন যদি খালেদা জিয়া হাজির না হন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে। আর কোনো সময় দেয়া হবে না। বিশেষ বিবেচনায় এবারের মতো তার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করা হলো।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মিরপুরের দারুসসালাম থানায় নাশকতার আট মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহের একটি ও যাত্রাবাড়ী থানার বিস্ফোরক আইনের মামলা।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নথি থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদারের আদালতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ওই মামলায় গত ৫ এপ্রিল খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’

ওই দিন খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।’

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামের এক যাত্রী।