স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত শ্বশুরের হাতে নির্মম খুন হলো ঘরজামাই যুবক!

স্টাফ রিপোর্টার, সময়ের কণ্ঠস্বর-

স্ত্রীর ‘পরকীয়া’ সম্পর্কের প্রতিবাদ করার জের ধরে ক্ষিপ্ত শ্বশুরের হাতে নির্মম কায়দায় খুন হয়েছেন এক স্বামী । নিহত স্বামীর নাম জুয়েল রানা (৩৩)।

বুধবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল প্রজেক্টের কাছে একটি সেতুর নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করেছে দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানা পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ জানায়, উঠানে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় জুয়েলের মামা শ্বশুর ছুরি নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন। এসময় জুয়েল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে ছুরি দিয়ে জুয়েলের কোমরে আঘাত করেন তিনি। এরপর জুয়েলের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।ছুরি দিয়ে আঘাতের পর জুয়েল যেদিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন সেদিকে এখনও রক্তের দাগ রয়েছে।

জুয়েলের পারিবারিক সুত্র জানায়, জুয়েল রানা ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশালের হিজলা থানায়।

প্রায় সাত বছর আগে কেরানীগঞ্জের জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে চম্পা আক্তার আঁখির (২৪) সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল জুয়েলের। আঁখি ঢাকা মহানগর কলেজের অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক শ্রেণিতে পড়ছেন। বিয়ের পর থেকেই আঁখি তার নিজের বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। জুয়েল শ্বশুড়বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন।

জুয়েলের পরিবারের অভিযোগ, বছরখানেক আগে জুয়েল তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহ শুরু করেন। আঁখি প্রায়ই মোবাইল ফোনে অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতেন। এ নিয়ে সম্প্রতি আঁখির সঙ্গে জুয়েলের ঝগড়া হয়। এসব ঘটনায় উলটো শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর জুয়েল রাগ করে কেরানীগঞ্জের শ্বশুড়বাড়ি থেকে চলে যান।

নিহত জুয়েলের বাবা এ এস এম হারুনুর রশিদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে জুয়েলের স্ত্রীর সঙ্গে আঁখির ঝগড়া চলে আসছিল। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ছেলে জুয়েলের মোবাইলে ফোন দিলে নম্বর বন্ধ পান তিনি। আজ সকালে তাঁর নম্বরে ফোন দিলে এক পুলিশ সদস্য ফোন রিসিভ করে জানান, তাঁরা জুয়েলের লাশ উদ্ধার করেছেন।

ঘটনার বিবরনে নিহত জুয়েলের বাবা জানান, ২০ দিন আগে জুয়েল ও তাঁর স্ত্রী আঁখি বরিশালে কিছু দিনের জন্য ঘুরে আসেন। ফিরে এসে জুয়েলকে ঢাকায় আলাদা বাসা নিতে বলেন আঁখি। তারা মিরপুর এলাকায় শেওড়াপাড়ায় ভাড়া বাসা নেন।

গত ১৫ এপ্রিল গিয়ে সেখানে ওঠেন তাঁরা। পরের দিন তাঁরা জুয়েলের খালুর বাসায় বেড়াতে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর জুয়েলের শ্বশুর আঁখিকে ফোন করে জামাইকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে যেতে বলেন। কিন্তু জুয়েল যেতে রাজি হননি। এরপর আঁখির পীড়াপিড়িতে জুয়েল শ্বশুরবাড়ি যান।

killer-father

এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন বলে জানান হারুনুর রশিদ। মামলায় তাঁর ছেলের বউ আঁখি, জুয়েলের শ্বশুরসহ ছয়জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে ঝিলমিল প্রজেক্ট এলাকা থেকে জুয়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।