বিমানবন্দরে কাছে বোমা হামলাকারী আইএস এর সদস্য ছিল দাবি সংগঠনটির

ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এক কিশোরের ছবি প্রকাশ করে বলেছে, তাদের এই জিহাদি গতমাসে বাংলাদেশের ঢাকায় বিমানবন্দরের কাছে বোমা বহনের সময় বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে। সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে কিশোরের নাম বলা হয়েছে আবু মোহাম্মদ আল-বাঙালি। এর আগে বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো বোমা বহনকারী ওই কিশোরের নাম আয়াদ হোসেন।  আইএসের ছবির কিশোরই আয়াদ হোসেন কিনা, পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়।

বিষয়টি সম্পর্কে কিশোরের  পরিবারও কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত ২৪শে মার্চ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পুলিশ চেকপোস্টে বোমা বিস্ফোরণে এই কিশোর নিহত হয়। আইএস এর প্রকাশিত ছবিতে মাথায় স্কার্ফ জড়ানো এবং ছুরি উঁচিয়ে এক কিশোরকে দেখা যাচ্ছে। ছবিতে ছদ্মনামটি কিশোরের পিছনে আইএস এর ব্যানারের পাশে লিখিত দেখা যায়।

গত মার্চে ঢাকায় বিমানবন্দরের কাছে বোমা বহনের সময়  বিস্ফোরণে নিহত কিশোরকে আয়াদ হোসেন নামে শণাক্ত করা হয়েছে। সে সময়ই আইএস এর দায় স্বীকার করেছিল। এখন আইএস এর প্রকাশিত ছবিই আয়াদ হোসেন কিনা, তা নিয়ে  সামাজিক নেটাওয়ার্কে আলোচনা রয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত  করছেন, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান।
উপ কমিশনার বলছিলেন, “এরআগে বিভিন্ন ঘটনায় আইএস তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলেছে। যদিও আমরা এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি এবং বিশ্বাস করি  যে, এখানে আইএস এর অস্তিত নেই। দেশীয় জঙ্গীরা কেউ হয়তো ঐ মতাদর্শে বিশ্বাসী হতে পারে এবং ইন্টারনেটে  দেশের যে কেউ এ ধরণের দাবি করতে পারে।”

মহিবুল ইসলাম খান আরও বলেছেন, “প্রকাশিত ছবিতে অনেক আগের চেহারা। ঐ ছবির সঙ্গে মিলে কিনা, সেটা আমরা বিশ্লেষণ করছি।  আমাদের কাছে তার মৃতদেহের ছবি আছে, এরসাথে ঐ ছবি মিলিয়ে দেখবো।”  বোমা বিস্ফোরণে নিহত কিশোর আয়াদ হোসেনের মা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনার অনেক আগে আয়াদ হোসেনের সাথে তার খালাত ভাইও নিখোঁজ হয়েছিল।  যার সন্ধান এখনও মেলেনি।

আয়াদ হোসেনের খালা নীলুফার ইয়াসমিন বলছিলেন, এই দুই কিশোরের জঙ্গী তৎপরতা সম্পর্ক তাদের কোন ধারণা ছিল না। পুলিশ তার স্বামী এবং আরেক ছেলেসহ পরিবারের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।  তিনি বলছিলেন, “আসলে ঘটনাটির বাস্তবতা কি জিনিস, সেটা আমার ধারণার বাইরে।”  পুলিশ কর্মকর্তা মহিবুল ইসলাম খান বলেছেন, আয়াদ হোসেন জঙ্গী সংগঠন কথিত নব্য জেএমবির সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।  তিনি আরও জানিয়েছেন, স্কুল ছাত্র আয়াদ হোসেন তার বাবার সাথে সৌদীআরবে অনেকটা সময় ছিল।  এরপর থেকে ঢাকায় এসে মায়ের সাথে মিরপুর এলাকায় থাকতো এবং সে সেখানে স্কুলে লেখাপড়া করতো।

পুলিশ কর্মকর্তা মহিবুল ইসলাম খান উল্লেখ্য করেছেন, আট মাস আগে আয়াদ হোসেন তার খালাতো ভাই রাফিদ আল হাসানের সাথে নিখোঁজ হয়।সেই ঘটনার তদন্তে  ঐ দুই কিশোরের কর্মকান্ড নিয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়েছিল। তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সন্ত্রাসী তৎপরতায় ঝুঁকেছিল বলে পুলিশ তথ্য পায়।

তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের  সীতাকুন্ডে জঙ্গী আস্তানায় পুলিশ যে অভিযান চালিয়েছিল. সেই আস্তানায় কিশোর আয়াদ হোসেন ছিল বলেও পুলিশ তথ্য প্রমাণ পেয়েছে। এরই মাঝে ঢাকায় বিমানবন্দরের কাছে বোমা বহনের সময় নিহত হওয়ার পর তার মা এবং আত্নীয়রা এসে ঐ নিহত কিশোরকে আয়াদ হোসেন বলে চিহ্নিত করে।  তবে পরিচয় আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও পুলিশ কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন।  তিনি আরও জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঘটনাটির পিছনে কারা ছিল, সেটাও তারা তদন্ত করছেন।