চলতি বছরের সেরা প্রেমের গল্প; ফেসবুকে দুই নির্বাক যুগলের প্রেম ও বিয়ে!

প্রেমের কোনো দেশ-কাল-পাত্র নেই। এই প্রেমের টানেই সমাজ-সংসারের সব প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনের গল্প নতুন নয় ইতিহাসে। তেমনই এক নজির স্থাপন করলেন মৌলভীবাজারের বাকপ্রতিবন্ধী সিরাজ আহমদ লন্ডন প্রবাসী ও বাংলাদেশের বাকপ্রতিবন্ধী হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বড় পিরিজপুর গ্রামের মৃত মুহিব উদ্দিনের তৃতীয় মেয়ে ফাবিহা খানম পান্না।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সূত্রে পরিচয় তাদের। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, প্রেম। তারপর বাংলাদেশ আর লন্ডন দূরত্ব ঘুচিয়ে এই যুগল এখন পরিণয়ে আবদ্ধ ।  সিরাজ-পান্না প্রেমের সফল পরিণতির এই গল্প এখন মৌলভীবাজারের মানুষের মুখে মুখে।

নবিগঞ্জ প্রতিনিধি,সময়ের কণ্ঠস্বর : গ্লোবাইজেশানের এই যুগে ইন্টারনেটে পরিচয় ও সখ্যতা অতঃপর প্রেমের টানে পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটে গিয়ে প্রেমের পরিণতি থেকে যুগলবন্দী হবার অনেক গল্পই আমরা জানি। অহরহই ঘটছে এমন শত ঘটনা । কিন্তু এবারের যে জুটির গল্প পাঠকদের জানাবো তা হয়তো সব প্রেমের গল্পকে ছাপিয়ে যায়।

বরাবরই আমরা পছন্দের মানুষের মধ্যে নিজের ভালোলাগা আর ভাবনার প্রতিচ্ছবি খুজে থাকি। ভাব প্রকাশের মধ্যদিয়ে প্রিয় সঙ্গীকে জানাতে চাই হাজারো কথা । কিন্তু আজকের গল্পের নায়ক ও নায়িকা দুজনের কেওই মুখে তাদের ভাব প্রকাশ করে মন বিনিময় করেননি। হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের জোর লেগেছে অস্ফুস্ট শব্দেই ।

facebook love

ওরা দুজনেই বাক প্রতিবন্ধী। তরুনি  বাংলাদেশের নবীগঞ্জের বাসিন্দা আর গল্পের নায়ক তরুন লন্ডন প্রবাসী । পৃথিবীর দু-প্রান্তের দুজন দুজনকে খুজে নিয়েছেন নিঃশব্দে । সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে  নির্বাক এই যুগলের প্রেমের অনবদ্য গল্প প্রকাশের পর অনেকেই বলছেন এ গল্প বছরের সেরা প্রেমের গল্প হবার যোগ্যতা রাখে।

সুদূর লন্ডন থেকে বাকপ্রতিবন্ধী সিরাজ আহমদ বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন বাকপ্রতিবন্ধী ফাবিহা খানম পান্নার প্রেমের টানে। আর সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই ঘর বাঁধতে গত শুক্রবার বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন দুই জেলার দুই বাকপ্রতিবন্ধী। আউশকান্দি রহমান কমিউনিটি সেন্টারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ৫ লাখ টাকার দেনমোহরে বিয়ের কাবিন করেন কাজী ছলিম হোসেন।

facebook love2

যদিও মুখে কথা বলতে পারেননা কিন্তু ফাবিহা খানম পান্নাকে বিয়ের শাড়ি ও সিরাজ আহমদকে শেরোয়ানি পাগড়িতে দারুণ হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। কনেপক্ষর লোকজন ও বরযাত্রী ছাড়াও উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল এ প্রেমিক জুটির বিয়ের অনুষ্ঠানে।

বরযাত্রী হয়ে সিলেট ও ঢাকা থেকে আসেন বর সিরাজ আহমদের ১০ বন্ধু। তারা সবাই বাকপ্রতিবন্ধী। তাদের মধ্যে লক্ষ করা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বাকপ্রতিবন্ধী সিরাজের বন্ধুরা কাগজে লিখে জানান, বিয়েতে এসে তাদের ভালো লেগেছে। ফেসবুক গ্রুপে সিরাজের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব হয়।

bak-jugol
সারাবিশ্বে প্রেম নিয়ে লেখালেখি, নাটক, গল্প এবং সিনেমার শেষ নেই। প্রেমের কোনো দেশ-কাল-পাত্র নেই। এই প্রেমের টানে সমাজ-সংসার, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে নিজের জীবণ দিতেও মানুষ ভয়ে করে না। সব বাধাকে অতিক্রম করে প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনের গল্পও ইতিহাসে নতুন নয়। তেমনি প্রেমের ইতিহাসের সাথে নতুন ইতিহাস স্থাপন করলেন মৌলভীবাজারের বাকপ্রতিবন্ধী লন্ডন প্রবাসী সিরাজ আহমদ এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাকপ্রতিবন্ধী ফাবিহা খানম পান্না।

ফাবিহা খানম পান্না নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের বড় পিরিজপুর গ্রামের মৃত মুহিব উদ্দিনের তৃতীয় মেয়ে। আর সিরাজ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের উলুয়াইল গ্রামের মৃত হাজি মখলিছুর রহমানের ছেলে। সিরাজ লন্ডনপ্রবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে তাদের পরিচয়। এ থেকে শুরু হয় তাদের প্রেমের সম্পর্ক। এক পর্যায়ে ঘর বাধাঁর সিদ্ধান্ত নেয় প্রেমিক যুগল।

পান্নার ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ বছর আগে ফেসবুকে ফাবিহা খানম পান্নার সঙ্গে পরিচয় হয় সিরাজের। এর পর দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেন তারা। পরে তারা দুজনই সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করার। গত সাত দিন আগে সিরাজ লন্ডন থেকে মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে দেশে আসেন। এসে দুই পরিবারের যৌথ উদ্যোগে বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। শুক্রবার ঢাকা সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি রহমান কমিউনিটি সেন্টারে তাদের বিয়ে হয়। পরে নববধূ ফাবিহা খানম পান্নাকে নিয়ে সিরাজ তার মৌলভীবাজারের বাড়িতে যান।