প্রতারনার নয়া কৌশলে যেভাবে জিম্মি হয়ে অবশেষে মুক্তি পেলেন শেরপুরের সুজন

শেরপুর প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর-

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় আছেন শেরপুরের নকলা পৌরসভা এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মামুন (২৮)।  সেখানে কি কাজ করে জানেনা কেওই। তবে এলাকাবাসীর ব্বক্তব্য চলা ফেরায় বেশ আভিজাত্য আছে মামুনের। সবার ধারনা ঢাকায় হয়তো বড়সড়ো কোন চাকরি অথবা ব্যবসা আছে তার।

ছমাসে অথবা  বছরে একও আধবার নিজের এলাকায় আসেন মামুন । গত কদিন আগে (পহেলা বৈশাখের দিন) মামুন নিজের এলাকায় আসলে একই এলাকার সুজন (১৭)র সাথে কথা হয় তার। সুজন তার কাছে কাজের সন্ধ্যান করলে ভালো কাজ দেয়ার প্রতিশ্রূতি দিয়ে সাথে নিয়ে যান  শেরপুরের নকলা পৌরসভার চরকৈয়া এলাকা সেকান্দর আলীর ছেলে সুজনকে।

এরপর থেকেই কোন খোঁজ মিলছিলোনা সুজনের । মামুনেরো মোবাইল বন্ধ। দুশ্চিন্তায় ছিলেন পরিবারের সবাই।

প্রায় পাচদিন পর সুজনের পরিবারের কাছে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে কল আসে। জানানো হয় মামুন সুজনকে ৮০ হাজার  বিক্রি করে দিয়েছে বগুড়ার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে পরিবারের। সুজনকে পাঁচ দিন ধরে নির্জন ঘরে আটকে রেখে মুক্তিপণের বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়। বলা হয়, সুজনকে বিক্রি করে মামুন ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

সুজনের পরিবার জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় সুজনের মোবাইল থেকে ঢাকায় অবস্থানরত তার বড় ভাই সেলিমকে ঘটনাটি জানানো হয়। তবে যেন পুলিশ বা অন্য কোনো লোকজন বিষয়টি না জানতে পারে বলা হয়। আর জানলে সুজনকে মেরে ফেলে হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এরপর সেলিম ঢাকা থেকে নকলায় এসে ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নকলা থানায় ভাই হারানোর বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর সুজনের মোবাইলের মাধ্যমেই মুক্তিপণ দাবিদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পিনু, নুরুল ও সেলিম শুক্রবার দিবাগত  রাত ২টার দিকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে বগুড়ার চৌরাস্তা এলাকা থেকে সুজনকে উদ্ধার করে। শনিবার দুপুরে নকলায় নিয়ে এসে থানায় উদ্ধারের বিষয়টি জানান।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মামুন ১৮/১৯ বছর ধরে ঢাকায় থাকে। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসলেও ২/১ দিনের মধ্যে চলে যায়। ঘটনার দুদিন আগেও সে এলাকায় এসে  সুজনকে  নিয়ে ৮০ হাজার টাকায় তাকে বিক্রি করে কৌশলে মামুন চলে আসে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নকলা থানার ওসি খান আবদুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, থানায় একটি জিডি হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরাই নাকি সুজনকে বগুড়া থেকে উদ্ধার করে এনেছে। কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।