বেতনের সঙ্গে বাড়ল টাইগারদের ম্যাচ ফি-ও

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক: নতুন বেতন কাঠামোয় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৬তম কার্যনির্বাহী সভায় খেলোয়াড়দের নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড, যা কার্যকর হবে এ বছরের জানুয়ারি থেকে।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, ‘ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি দুটোই বাড়ানো হয়েছে। চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে চারটি ক্যাটাগরিতে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে সবাই নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন।’

নতুন কাঠামোয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ও ম্যাচ ফির পরিমাণ উল্লেখ করেন বিসিবি সভাপতি। নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের বেতন বেড়েছে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ। গত বছরের চুক্তিতে এ ক্রিকেটাররা বেতন পেতেন আড়াই লাখ টাকা করে। এখন তারা পাবেন ৪ লাখ টাকা। ‘এ’ ক্যাটাগরির বেতন বেড়েছে ৫০ শতাংশ। আগের চুক্তি অনুসারে, এ গ্রেডের খেলোয়াড়রা পেয়েছেন ২ লাখ টাকা। তা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ছে ৩০ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দেড় লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ২ লাখ টাকা। ‘সি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ছিল ১ লাখ টাকা, সেটা বেড়ে দাঁড়াল দেড় লাখে। আর ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

গতবারের চুক্তিতে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার— মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। তবে এবার চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের নাম পরে জানানো হবে। আগে আইসিসি র্যাংকিংয়ের ওপর ভিত্তি করে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চুক্তিবদ্ধ করা হতো। এবার র্যাংকিংয়ের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে বিসিবিপ্রধান বলেন, ‘র্যাংকিংয়ের বিচারে মুস্তাফিজ, মিরাজ কিংবা মোসাদ্দেকের মতো তরুণ ক্রিকেটারদের ওপরের ক্যাটাগরিতে রাখার সুযোগ কম। তাই ওদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর রাখছি।’

বেতনের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বাড়ানো হয়েছে। আগে টেস্ট ম্যাচপ্রতি প্রত্যেক খেলোয়াড় পেতেন ২ লাখ টাকা। সেটা বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ গুণ। নতুন কাঠামোয় প্রতি টেস্টে খেলোয়াড় ম্যাচ ফি বাবদ পাবেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি বেড়েছে দ্বিগুণ। গত বছরের ১ লাখ এখন থেকে ২ লাখ টাকা। আর টি২০তে ম্যাচ ফি বেড়েছে ৫০ হাজার টাকা। গতবারের ৭৫ হাজার টাকা ম্যাচ ফি হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও জানা গেছে, ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করতে উইনিং বোনাসও বাড়াচ্ছে বিসিবি। টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষ তিন দলের কোনো একটিকে হারালে ম্যাচ ফির বাইরেও বোনাস ৩ হাজার থেকে বেড়ে হচ্ছে ৪ হাজার ডলার। র্যাংকিংয়ের চার থেকে ছয় নম্বর দলকে হারালে বোনাস ২ হাজার থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩ হাজার ডলার, সাত থেকে নয় নম্বর দলকে হারালে দেড় হাজার থেকে বেড়ে আড়াই হাজার ডলার।

ওয়ানডেতে শীর্ষ তিন দলের কোনো একটিকে হারালে আগে বোনাস ছিল দেড় হাজার ডলার। এখন সেটি হচ্ছে আড়াই হাজার। চার থেকে ছয় নম্বরে থাকা দলকে হারানোর জন্য ১ হাজার থেকে বেড়ে ২ হাজার ডলার, সাত থেকে নয় নম্বর দলকে হারালে বোনাস ৫০০ ডলারের বদলে হচ্ছে ১ হাজার ডলার। টি২০তে এ বোনাস হবে যথাক্রমে দেড় হাজার, ১ হাজার ও ৮০০ ডলার।

এছাড়া মাসিক বেতনের সঙ্গে দায়িত্ব ভাতা হিসেবে অতিরিক্ত কিছু অর্থ পান অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক। এবারো অধিনায়কের দায়িত্ব ভাতা ২০ হাজার টাকা, সহ-অধিনায়কের ১০ হাজার টাকা। এদিকে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের বেতন ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বিসিবির পরিচালক ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল করিম টিংকুর মৃত্যুতে নতুন আম্পায়ার্স কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ সোহেল।