মায়ের পরকীয়া: নিজ হাতে ধারালো ছুরি দিয়ে ‘মা’কে নির্মমভাবে হত্যা করল ছেলে

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি- নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে মাকে গলা কেটে হত্যা করেছে তার নিজ ঔরষজাত সন্তান আমিন আহমদ, সাংবাদিকদের এমন তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবী আটককৃত আমিন তার মায়ের সাথে অন্য লোকের পরকীয়া মেনে নিতে না পেরে নিজ হাতে ধারালো ছুরি দিয়ে মা’কে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজিত চক্রবর্ত্তী।

unnamedfffঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের কামিরাই গ্রামে। খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ বোরকা পরিহিত ওই মহিলার গলাকাটা লাশ হাত বাধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

নিহত আমেনা আক্তার ওই গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন জাবিদ উল্লার স্ত্রী। ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবলের সার্কেল রাসেলুর রহমান, ওসি এসএম আতাউর রহমান ও র‌্যাব-৯ এর দল সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এলাকার শত শত লোকজন নিহতের বাড়িতে ভীড় জমান। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সকালে লাশ উদ্ধার করে আমিনকে আটক করা হলেও এর বেশ কয়েক ঘন্টা পর বিকেল ৫ টার দিকে সাংবাদিকদের স্বীকারোক্তির কথা জানায় পুলিশ।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের কামিরাই (টুনাকান্দি) গ্রামের লন্ডন প্রবাসী মরহুম হাজী জরিফ উল্লার কন্যা এবং একই গ্রামের জাবিদ উল্লার স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪৫) কে তার বসত ঘরে হাত বাঁধা গলা কাটা বিছানায় বালিশ চাপা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওই বাড়ির লোকজন জানান, সকালে নিহত আমেনা আক্তারের ছেলে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় গেল এস এস সি পরীক্ষায় উর্ত্তীন্ন হওয়া আমিন আহমদ মা’কে খাবারের জন্য ডাকতে গেলে মায়ের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। পরে পাশের ঘর থেকে তার বাবা’কে ডেকে এনে ঘরে ডুকে দেখেন বিছানায় তার মায়ের হাত বাঁধা নিথর দেহ পড়ে আছে। গলার উপর বালিশ চাপা দেয়া রয়েছে। বালিশ সরিয়ে দেখেন আমেনার গলা কাটা। এ সময় তাদের শোর চিৎকারে পাড়া প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আমেনা আক্তার এর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে। এসময় নিহতের স্বামী ও সন্তানকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

স্থানীয় লোকজন জানান, নিহত আমেনা আক্তার প্রায় ৫ বছর আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন। গত বছর দু’য়েক ধরে তার স্বামী মানসিক রোগি হওয়ার কারনে তিনি একা আলাদা ঘরে থাকতেন। তার বাবা লন্ডন প্রবাসী জরিফ উল্লার দুটি সংসার রয়েছে। প্রথম সংসারের মেয়ে আমেনা আক্তার। জরিফ উল্লা মারা যাবার পরে জায়গা সম্পদ নিয়ে সৎ ভাইদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল।

এছাড়া হত্যার রাতে নিহত মহিলার মোবাইল নাম্বারে একটি কল আসে। ওই নম্বরে নিহত আমেনার ছেলে আমিন আহমদ তার মোবাইল থেকে কথা বলতে গিয়ে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃত আমিনার ছেলে আমিন আহমেদ তার মাকে প্রথমে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় পরে ঘুমন্ত অবস্থায় হাত পা বেঁধে ছুরি দিয়ে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার জবানবন্দী মোতাবেক তাদের রান্না ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সার্কেল এএসপি রাসেলুর রহমান বলেন, আটককৃত ওই মহিলার সন্তান পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, তার মায়ের সাথে অন্য লোকের পরকিয়া সম্পর্ক ছিল তাই সে নিজেই তার মাকে হত্যা করেছে।

ওসি এসএম আতাউর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করি। এ সময় তার ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে আসি। জিজ্ঞাসাবাদে আমিনার ছেলে জানিয়েছে- তার মায়ের সাথে অন্য লোকের পরকিয়া আছে তা সে মেনে নিতে পারেনি। গত রাতে আমিন তার মাকে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় এক পর্যায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় হাত পা বেধে ছুরি দিয়ে হত্যা করে। তার স্বীকারোক্তি মতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।