মাদ্রাসা বোর্ডের সেরা তালিকায় স্থান করে সবাইকে তাক লাগালেন হিন্দু কিশোরী !

আলোচিত ডেস্ক-

ধর্ম বিতর্কের ঊর্দ্ধে উঠে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন হাওড়ার মেয়ে প্রশমা! নিশ্চিত এই গল্প সকলকে গর্বিত করবে।শিক্ষাঙ্গনে ধর্ম যে কোনও মাপকাঠি হতে পারেনা তা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিল সপ্তম শ্রেনী পড়ুয়া এই হিন্দু স্কুলছাত্রী।

পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ডের দশম শ্রেনির ফল প্রকাশ হয়েছে মঙ্গলবার। আর সেই বোর্ডেই মেধাতালিকায় অষ্টম স্থান পেয়ে তাক লাগালেন হিন্দু ঘরের মেয়ে প্রশমা শাসমল। হাওড়ার প্রশমাকে নিয়ে গর্বিত তাঁর স্কুল খালাতপুর হাই মাদ্রাসা।

শিক্ষাঙ্গনে ধর্ম যে কোনও মাপকাঠি হতে পারেনা তাপ্রমাণ করে দেখি য়ে দিল হাওড়া উদয়নারা.ণপুরের প্রথমা সাসমল। হাই মাদ্রাসার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্য অর্জন করে এক অনন্য নজির গড়ল হিন্দু ঘরের মেয়ে প্রশমা শাসমল। মাদ্রাসার মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মেয়েদের মধ্যে তৃতীয় হয়েছে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের প্রশমা।

ভারতে ধর্মীয় হিংসার আবহের মধ্যেই হাওড়ার খলতপুর হাইমাদ্রাসার হিন্দু ছাত্রী প্রশমা ,সংহতির এক উজ্জ্বল নির্দশন। হাই মাদ্রাসার মাধ্যমিক পরীক্ষায় সারা রাজ্যের মধ্যে সে দখল করেছে অষ্টম স্থান, মেয়েদের মধ্যে তৃতীয়। এই পরীক্ষায় প্রশমা পেয়েছে ৯১.৯ শতাংশ নম্বর। শুধু প্রশমা নয়, তার পরিবারের আরেক সদস্যও মাদ্রাসার পড়ুয়া। প্রশমার ভাই প্রমিত শাসমলও খলতপুর মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।

এর আগে কোনও হিন্দু ছাত্রী মাদ্রাসা পরীক্ষায় এর আগে এত ভালো ফল করেনি । সে কারণে, গতকাল (মঙ্গলবার) ফল বেরুনোর পর থেকে প্রশমাকে নিয়ে শুধু হাওড়া নয়, পুরো রাজ্যেই চর্চা হচ্ছে।

হাওড়ার খালাতপুর হাই মাদ্রাসার ঐ ছাত্রী প্রশমা শাসমল সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় জানান, “র‍্যাঙ্ক করতে পেরে খুব ভাল তো লাগছেই। পরীক্ষা খুব ভালই হয়েছিল, নম্বরটা আরেকটু বেশী পেলে আরও ভাল লাগত।”

একজন হিন্দু হয়েও আরবি আর ইসলাম পরিচয় – এই দুটি বিষয় পড়তে তার কেমন লাগত? এই প্রশ্নে প্রশমা জানিয়েছেন, “ওই দুটো সাবজেক্টকে আলাদা ভাবে দেখি নি কখনও। অন্য বিষয় যেমন পড়তাম এগুলোও সেইভাবেই পড়তাম, ভাল লাগত পড়তে। আর আমি ক্লাস সিক্সে এই মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখেছি যে স্যারেরা এই দুটো বিষয়ে কে কেমন করছে, তার ওপরে খুব নজর দিতেন।”

madrasa-hindu-girl22
প্রশমাকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন স্কুল শিক্ষকেরা

প্রশমা জানান, বন্ধুদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান কাউকে কখনও আলাদা করে দেখি নি – একসঙ্গে খেয়েছি, আড্ডা মেরেছি। স্যারেদের মধ্যেও হিন্দু যেমন আছেন, মুসলমানও তেমন আছেন। সবাই আমাদের পড়াশোনার দিকে খুব নজর দিতেন ছোট থেকেই,” বলছিলেন প্রশমা শাসমল।

প্রশমারই এক সহপাঠী, আরেক হিন্দু ছাত্র মলয় মাঝিও এবছরের মাদ্রাসা পরীক্ষায় ১৭ নম্বর স্থান অধিকার করেছে বলেও জানান প্রশমা ।
হিন্দু মেয়েকে কি ভেবে মাদ্রাসায় ভর্তি করলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রশমার মা ঝুমা দেবীর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমার মেয়ে বরাবরই খুব মেধাবী। আমি জানতাম এই মাদ্রাসার পড়াশোনার মান অত্যন্ত ভালো মানের। মেয়ের মেধার বিকাশের জন্য একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছিল, সেটি মাদ্রাসা হোক বা অন্য কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !পাশাপাশি তিনি আরও জানান, যে অনেকের মনের মধ্যে ভূল ধারণা রয়েছে যে মাদ্রাসায় ভালো মানের পড়াশোনা হয়না। এই ধারণা সম্পূর্ণ রূপে ভূল।

এবারের ফলাফলে ৮০০ এর মধ্যে প্রশমা পেয়েছেন ৭২৯ নম্বর। শতাংসের বিচারে যা ৯১.৯। এর আগে প্রশমা তাঁর গ্রামের বীরেশ্বর বালিকা বিদ্যালয়ে পড়তেন,কিন্তু পরে বাড়ির কাছের মাদ্রাসাতে ভর্তি হয়ে যান । এর পরেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনির পড়াশুনা মাদ্রাসা বোর্ডের অন্তর্গত থেকেই করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রশমা। মাদ্রাসের পড়াকালীন আরবি শেখা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে পড়াশোনা তাঁর কাছে একটি আলাদা রকমের অভিজ্ঞতা বলে জানিয়েছেন উচ্ছসিত প্রশমা। প্রশমার স্কুল থেকে মোট ৩৩ জন পড়ুয়া এবারের দশম শ্রেনীর মাদ্রাসা পরীক্ষার জন্য অবতীর্ণ হয়, যাঁদের মধ্যে ৯ জনই হিন্দু।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ডের সিলেবাসে হাই মাদ্রাসা স্তরে অন্য স্কুলের মতোই ইংরেজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ের সঙ্গে আরবি এবং ইসলামি পরিচয় – এই দুটি বিষয় পড়তে হয়।

বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা হয়।