এবার দেশের জন্য অনন্য এক সম্মাননা জয় করতে চলেছেন জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা!

বিনোদন প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর-

বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা উপমহাদেশের অন্যতম গুণী এবং জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন সময় অনেক সম্মাননায় ভুষিত হয়েছেন এই কিংবদন্তি। এবার জাতিসংঘের বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা এবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি শিক্ষা সংগঠন থেকে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হতে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ব্যারিনু ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ রুনা লায়লাকে ‘ডিস্টিনগুইশ সেলেব্রেটি লিজেন্ড অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য মনোনীত করেছে এই শিল্পীকে । বাংলায় যাকে বলা হচ্ছে ‘বিশিষ্ট তারকা কীর্তিমান পুরস্কার’।

‘ইন্সপায়ারিং ওম্যান ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারসিপ ইন দ্য গ্লোবাল ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রুনা লায়লার হাতে সম্মানজনক এ পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। সঙ্গীত, শিল্পচর্চা ও নারী উন্নয়নের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি এ সম্মাননা পাচ্ছেন।

অাগামী ২৫ মে নিউইয়র্কের ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অনুষ্ঠিত ’ইন্সপায়ারিং ওমেন ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড ইন্টারপ্রেনশিপ ইন দ্য গ্লোবাল ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সম্মানজনক এ পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

ইতোমধ্যে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ই-মেইলের মাধ্যমের রুনা লায়লাকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আয়োজক কর্তৃপক্ষ রুনা লায়লাকে জানায়, ‘সঙ্গীতে আজীবন অসাধারণ অবদান ও আপনার নিজের দেশ বাংলাদেশসহ এশিয়া ও বিশ্বব্যাপী নারীদের সৃজনশীলতা উন্নয়নে দৃষ্টান্তমূলক অবদানের জন্য আপনাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।’

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন রুনা লায়লা। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন জানিয়ে রুনা লায়লা বলেন, প্রতিটি সম্মাননাই এক ধরনের স্বীকৃতি। সে হিসেবে প্রতিটি সম্মাননাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

গুণী এই শিল্পি জানান, এত বছর যেসব পুরস্কার পেয়েছি, প্রতিটিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এটা আরও বেশি সম্মানের। কারণ, এটি দেওয়া হবে জাতিসংঘে। শুধু আমার নয়, এটা পুরো বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বলে মনে করছি।

বর্তমানে রুনা লায়লা যুক্তরাস্ট্রের শিকাগোতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই এ সম্মাননা গ্রহন করতে নিউইয়র্কে যাবেন বলে জানান তিনি।

রুনা লায়লা এ পর্যন্ত ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানসহ সারাবিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু সম্মাননায়ও ভূষিত হয়েছেন এ শিল্পী।

উল্লেখ্য, রুনা লায়লা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই চলচ্চিত্রের গায়িকা হিসাবে কাজ শুরু করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় এবং পাকিস্তানী চলচ্চিত্রের অনেক গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। বাংলা, উর্দু, পাঞ্জাবি, হিন্দী, সিন্ধি, গুজরাটি, বেলুচি, পশতু, ফার্সি, আরবি, মালয়, নেপালি, জাপানি, স্পেনীয়, ফরাসি, ইতালীয় ও ইংরেজি ভাষাসহ মোট ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান করেছেন তিনি। পাকিস্তানে তার গান ’দমাদম মাস্ত কালান্দার’ অত্যন্ত জনপ্রিয়।