বনানীর আলোচিত ধর্ষকদের ‘বিপদ-আপদ’ উদ্ধারে মসজিদে ‘বিশেষ মোনাজাত’! সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়!

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক-

বনানীর হোটেল রেইন ট্রিতে দুই ছাত্রীর  চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনায় যখন সারাদেশের মানুষ ধর্ষকদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার ঠিক তখনি ধর্ষকদের ‘বিপদ-আপদ’ থেকে রক্ষার জন্য দোয়া করার অভিযোগ উঠেছে জুম্মার নামাযের মোনাজাতে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়।

অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আপন জুয়েলার্স পরিবারের সদস্যদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষার জন্য কক্সবাজারের দুইটি মসজিদে জুম্মার নামাজে মোনাজাত করা হয়েছে। এমনকি ধর্ষকদের রক্ষার জন্য মসজিদে বিশেষ কোরান খতমেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে, এসব মোনাজাতের কথা স্বীকার করে দুই মসজিদের ইমামরা জানিয়েছেন, তারা ‘অজান্তেই’ করেছেন এমন মোনাজাত।

কক্সবাজার শহরের দুটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদের জুম্মার নামাজে ধর্ষকদের রক্ষার জন্য এমন ধর্মীয় প্রার্থনায় উপস্থিত মুসল্লিসহ সহ অবাক হয়েছেন সকলেই। জুম্মার নামাযের পরই উপস্থিত মুসল্লীদের মাধ্যমে প্রকাশ হবার পর  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদে নানা স্ট্যাটাস দেখা যায়।

সুত্রমতে , আজ শুক্রবার কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ ও বদর মোকাম জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের মোনাজাতে দুই  ইমাম পৃথক পৃথক ভাবে ‘বিতর্কিত’ এমন  প্রার্থনা করেন।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, মোনাজাতে প্রার্থনার পরপরই মসজিদের মুসল্লিরা তীব্র সমালোচনা করতে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি   এম এম সিরাজুল ইসলাম  সাংবাদিকদের  বলেন,  “খোঁজ নিয়ে জেনেছি মসজিদের খতিব মওলানা রিদওয়ানুল হককে আপন জুয়েলার্সের একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মোনাজাতের সময় আকস্মিক একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে মোনাজাত করিয়ে নেন। মোনাজাতের পর মসজিদের খতিব অবশ্য বিষয়টির ভুল স্বীকার করেছেন। “

অপরদিকে শহরের বদরমোকাম মসজিদের পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের  বলেন, “ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদের ইমাম মওলানা ইউনুছ ফরাজীকে আপন জুয়েলার্সের জন্য দোয়া করতে বলেন। ইমাম সহজ-সরল মনে তাই করেছেন। ” তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে আসা লোকজন বদরমোকাম মসজিদের ইমামকে নগদ টাকা দিয়ে কোরান খতমেরও আয়োজন করেন। গতকাল আছরের নামাজের আগে খতমও পড়ানো হয় মসজিদটিতে।