‘যথাযথ কতৃপক্ষের ‘টনক নড়াতে’ ব্যপক আন্দোলনের প্রস্তুতি’ সাত কলেজের প্রায় দুইলাখ শিক্ষার্থীর

সময়ের কণ্ঠস্বর,শিক্ষাঙ্গন ফিচার-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সরকারি কলেজগুলোকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার প্রথম দফায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে ‘বিপাকে’ পড়েছে সাত কলেজের প্রায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী। নানা জটিলতাসহ ঝুলে আছে  পরীক্ষা।

‘এমন অবস্থার কোন আশুপদক্ষেপ নেই কতৃপক্ষের’ এমন অভিযোগে এদফায়  দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে এবার আন্দোলনে নামছেন শিক্ষার্থীরা ।  আগামী ২৪ জুলাই শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাকে চলছে ব্যপক আয়োজন আর প্রস্তুতি।  এই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দেয়ার পাশাপাশি রাস্তায় অবস্থান করবেন শিক্ষার্থীরা।

প্রাথমিক এই কর্মসুচীতে সমাধান না আসলে,পরবর্তীতে ‘কতৃপক্ষের ‘টনক নড়াতে’ সাতটি কলেজের সামনের সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতিও চলছে জোরেশোরে। এমনকি দাবি আদায় না হলে ঢাকা অচলের কর্মসুচী দেবার পরিকল্পনা মাথায় রেখে এগুচ্ছেন কর্মসুচীর ডাক দেয়া শিক্ষার্থীরা।

আগামী ২৩ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। আগামী মাস থেকে শুরু হবে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া।  স্নাতকে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের ।

শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, এতদিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই সাত কলেজে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে ভর্তি করবে তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সেটা আগে থেকে ঘোষণা করা প্রয়োজন কতৃপক্ষের । সেটি এখনই যদি ঘোষণা দেয়া না হয় তবে শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়েও দুশ্চিন্তা দিন দিন বাড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এসব নিয়ে চলছে জোর আলোচনা-সমালোচনা। একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ,  মাস্টার্স এখন তার গলার কাঁটা হয়ে গেছে, না পারছি চাকরির পড়াশোনা করতে না পারছে মাস্টার্স শেষ করতে’ ।

এই দাবীর স্বপক্ষে চলছে নানা প্রচারনার অনলাইন ইভেন্ট, একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ , ‘আমি বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে পরীক্ষা দেব। মাস্টার্স শেষ না হওয়ায় আবেদন করতে পারছি না। একই ব্যাচের অন্যদের মাস্টার্স শেষ। তারা পরীক্ষা দিতে পারবে।’

এমন পরিস্থিতির মুখে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানালেন,‘হঠাৎ করে সাতটি কলেজের দায়িত্ব আমাদের ওপর দেয়ায় অনেকটা চাপ অনুভূত হচ্ছে। তারপরও কাজ চলছে। তাদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। এখন বিভাগওয়ারি পরীক্ষা নেয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ে এটা করা যাবে।’

এর আগে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হচ্ছে- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজ। এই সাত কলেজের প্রত্যেকটিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩০টি বিষয়ে পড়ানো হয়। প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই লক্ষাধিক ও  ১ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ কমাতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি কলেজগুলোকে সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন। পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে সভা হয়। সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা কলেজগুলোকে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিতে একমত হন। কিন্তু কাছাকাছি সময়েই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেশনজট কমাতে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ ঘোষণা করে। কিন্তু এই ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রামের’ মাধ্যমে দ্রুত পরীক্ষা হলেও ঠিকমতো ক্লাস না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’সহ বিভিন্ন কারণে সরকারি কলেজগুলোকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার কাজের গতি কমে যায়। এর মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাগিদ দেয়।

বর্তমানে দেশে স্নাতক পর্যায়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দুই হাজারের বেশি কলেজে পড়ছেন। এগুলোতে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ২১ লাখ। সরকারি প্রায় ২০০ ও বেসরকারি প্রায় ৫০০ কলেজে স্নাতক (সম্মান) পড়ানো হয়।

সুত্র জানায়, রাজধানীর এই সাত কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাকি সরকারি কলেজগুলোও পর্যায়ক্রমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, একসময় স্নাতক পড়ানো হয়—এমন কলেজগুলো কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত ছিল।

[ ফ্ল্যাশ ব্যাক]
চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত আগের সংবাদ

সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া রাজধানীর ৭টি কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম নিয়ে ব্যপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এসব কলেজে বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী। এ জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ১লা এপ্রিল জরুরি বৈঠক ডেকেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ঘোর বিরোধিতা করে আসছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের ক্ষমতা খর্ব হবে এমন শঙ্কা যখন সত্য হলো, তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতছাড়া হওয়া সাত কলেজকে সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা কার্যক্রমের তথ্য না দিয়ে নানাভাবে অসহযোগিতা শুরু করে।
প্রথম ধাপে এ সাত কলেজের সব শিক্ষার্থী সব তথ্য ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া চলতি ও আসন্ন পরীক্ষাগুলোর ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো সহযোগিতা করছে না।

এতে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বদিউজ্জামান গ্রেপ্তার হওয়ায় মাস্টার্স চূড়ান্ত বর্ষের সব পরীক্ষা আকস্মিক স্থগিত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খামখেয়ালিতে সাত কলেজের পরীক্ষা, পরীক্ষার ফলাফল
এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই কলেজগুলোর সব কার্যক্রম তথ্যকণিকা থেকে বাদ দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

এমনকি এসব তথ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও সরবরাহ করছে না। স্নাতক পর্যায়ের ৩০টি বিষয়ের প্রথম বর্ষ থেকে শেষ বর্ষ পর্যন্ত শতাধিক পরীক্ষার ফলাফল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

একই সঙ্গে আগামী ২৮শে মার্চ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ শিক্ষার্থীদের সব কার্যক্রম তথ্যকণিকা থেকে বাদ দেয়ায় এসব শিক্ষার্থী রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন। এরা এখন কেউ জানেন না তাদের পরীক্ষা কবে হবে এবং যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল, তাও কবে নাগাদ পাওয়া যাবে।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views