ভোরবেলায় নামায পড়তে ‘ডাকাডাকির শাস্তি’ হিসবে বৃদ্ধা মায়ের পায়ে শেকল দিয়েছে কুলাঙ্গার সন্তান

সময়ের কণ্ঠস্বর, সাতক্ষীরা।

দশমাস গর্ভে রেখে কতখানি অবর্ননীয় কষ্টে কোন মা তার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখায় সে বিষয়ে বিস্তারিত বলার প্রয়োজন বোধকরি নেই। যে গর্ভধারিনী মা সন্তানকে এই পৃথিবীর শত বিপদ থেকে রক্ষা করে তিল তিল করে বড় করেন সেই সন্তান পরিনত বয়সে এসে যখন সেই বৃদ্ধা ’মা’কে সীমাহীন দুর্ভোগ আর অসহনীয় অপমান করেন তখনি  প্রশ্নবিদ্ধ হয় মানবিকতা।  এমন হাজারো ঘটনা হয়তো চাপাই পড়ে থাকে খবরের আড়ালে । বুকফাটা আর্তনাদে কত মা তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে চলে যান এভাবেই তার কোন পরিসংখ্যান নেই।

সন্তানের হাতে নিপীড়নের অনেক ঘটনা  চাপা পড়ে থাকলেও কদাচিৎ কিছু ঘটনা সামনে এসে হয়তো খুলে দেয় অনেকের বিবেক। এবার তেমনি এক ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হলো বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের সঠিক কর্তব্য।

ঘটনাস্থল সাতক্ষীরা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গা গ্রামে

ঐ গ্রামের বাল্লক ওরফে পুটে গাজীর স্ত্রী জানু পারভীন(৭০) এর ভাগ্যে জুটেছে সন্তানের নিষ্ঠুর নির্মমতা । বৃদ্ধা মায়ের সেবা যত্নের বদলে কুলাঙ্গার সন্তান মা  জানু পারভীনকে অবশ্য  বৃদ্ধাশ্রমে রাখেননি। মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নিজের বাড়িতেই  রেখেছেন  লোহার শিকলে বন্দী করে। নিজের গর্ভধারিণী মায়ের পায়ে লোহার শিকল দিয়ে মাঝে মাঝে গাছের সাথে আটকে রাখা হয়। অপরাধ! কি এই মায়ের ? অপরাধ না কি ভোর সকালে এই বৃদ্ধা মা তার সন্তানকে নামায পড়তে ডাকা ডাকি করেন ( বৃদ্ধা হবার কারনেই হয়তো এই মা স্বাভাবিকতা ভুলে একটু বেশি ডাকেন) আর এতে করেই ভয়ানক ক্ষিপ্ত  সন্তান মায়ের পায়ে দিয়েছেন শেকল!

এলাকাবাসী জানান, পুটে পারভীনের ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে। স্বামী মারা গেছে ৩০ বছর আগে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। থাকে ছেলেদের সাথে। ছেলে মফিজুল বাদে আর কোন ছেলে বউ তার সাথে দূর্ব্যবহার করে না। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে ছেলেদেরকে নামাজের জন্য ডাকে। কিন্তু এই ডাকাডাকি ছোট ছেলে মফিজুল ও তার স্ত্রী সালমার সহ্য হয়না।

মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তারা প্রতিদিন বৃদ্ধ মাকে বেফাঁস ভাষায় গালাগালি করে। কয়েকবার ডাকার পর জানু পারভীন অন্য মনস্ক হয়ে পাড়ায় বেড়াতে যায়। বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়িতে যেয়ে তাদের ঘুম থেকে ডেকে তোলে। একটু সকাল হলেই আবার বাড়িতে চলে আসে। তার এমন আচরণে এলাকাবাসীর সমস্যা হয়না, সমস্যা হয় ছোট ছেলে মফিজুল ও তার স্ত্রী সালমার।

এই ঘটনার ছবিসহ সংবাদ  সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান  সোহাগ তার ফেসবুকে পোস্ট করলে ব্যপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অনেকেই। সবার দাবী, যথাযথ কতৃপক্ষ যেন দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহন করে এই অসহায়াবস্থা থেকে ঐ বৃদ্ধা মাকে মুক্তি দেন। একইসাথে পাষণ্ড সন্তানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করেন।

বৃদ্ধা মায়ের পায়ে শেকল দিয়েছে সন্তান !

মাঝে মাঝে ছোট ছেলের ঘরের বারান্দায় উঠলে বউমা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। মায়ের এমন আচরণে ছোট ছেলে মফিজুল বাজার হতে লোহার শিকল বানিয়ে আনে। মাঝে মাঝে সেই শিকল পায়ে দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। গাছের সাথে বেঁধে রাখা অবস্থায় কেউ সেখানে গেলে বৃদ্ধা মা জানু পারভীন তাদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আর শেকলটি খুলে দেওয়ার জন্য ছোট বাচ্চাদের মতো অনুনয়- বিনয় করে।

 

শিবপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনিছুর রহমান বলেন, ‘ছোট ছেলে মফিজুলের  বউ অনেক ডিয়ারিংও দাজ্জাল। বৃদ্ধ শাশুড়িকে তার সহ্য হয়না। আর মফিজুলতো বেউয়ের কথায় ওঠে আর বসে। এ সকল ছেলে-বউ সমাজের কলঙ্ক। তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কর্মকর্তা নূর হোসেন সজল বলেন, এমন ঘটনা কেউ ঘটালে তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত কিছু মন্তব্যের স্ক্রিনশট সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য। প্রিয় পাঠক,  জানতে চাই আপনার প্রতিক্রিয়াও। সমাজের চারপাশে এমন অনিয়ম, দুর্নিতি আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে আপনার সরব মন্তব্য আর প্রতিবাদ হয়তো মুক্তি অথবা নিস্কৃতি দিতে পারে কোন অসহায় বা নিপীড়িতকে।

তথ্যসুত্র কৃতজ্ঞতা – দৈনিক সাতক্ষীরা/ জাহিদ হোসাইন