পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ধর্ষিতা কিশোরী বিচার না পেয়ে আত্মহত্যার হুমকি

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি- পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চক্রপাড়া গ্রামে এক কিশোরী ধর্ষণের স্বীকার হয়েছেন। এ ঘটনায় ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ঐ কিশোরী আত্মহত্যা করার হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এদিকে ধর্ষক প্রভাবশালী ব্যক্তির সন্তান হওয়ায় তাদের হুমকির মুখে ধর্ষিতার পরিবার থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর তথ্যে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চক্রপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আফসার আলীর বিবাহিত বখাটে সন্তান আনিসুর রহমান আনিস (৩৫) বাড়ির পিছনে কাজের সময় তার প্রতিবেশী ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষিতার চিৎকারে ধর্ষক পালানোর চেষ্টা করলে অন্যান্য প্রতিবেশিরা তাকে আটক করে। পরে আপোষ-মীমাংশার কথা বলে গ্রাম্য প্রধানদের মধ্যস্থতায় ধর্ষককে ছেড়ে দেয়া হয়।

ধর্ষিতার দরিদ্র পিতা রব্বান আলী স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খাঁর পরামর্শে বিষয়টি সামাজিক ভাবে নিষ্পত্তির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হেদায়েতুল হকের নিকট বিচার প্রার্থনা করেন। এর প্রেক্ষিতে গত রবিবার শালিসের দিন ধার্য করা হয়। কিন্ত অজ্ঞাত কারণ দেখিয়ে ঐ দিনের বিচার কার্যক্রম স্থগিত করেন চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য প্রধানরা। এতে ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য প্রধান নুরুল ইসলাম খাঁ ধর্ষকের পিতার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে ধর্ষিতার বাবা অভিযোগ করেন।

ধর্ষিতার বাবা রব্বান আলী জানান, মেয়ের এই ঘটনায় তারা সমাজে মুখ দেখাতে পারছেন না। তাছাড়া বিচার না পাওয়ায় তার ধর্ষিতা মেয়ে কয়েকদিন ধরে ঘর থেকে বের হচ্ছেনা এবং পরিবারের নিকট আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে পারভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়তুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ধর্ষকের পরিবার ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য প্রধান নুরুল ইসলাম খাঁর কাছে এক লাখ টাকা জমা প্রদান করেছেন।

ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন ঘটনাটির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

আরআই