শুভ যাত্রায় ১৬ কোটি মানুষের পদ্মা সেতু, আজ শেষ হল ৩৭ পিলারের বেজের কাজ

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহ্মিদ, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে ও তথাকথিত কাগজ-কলমের বন্দিদশা কাটিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়। এই সেতুটি পৃথিবীর অন্যতম একটি সেতু হিসেবেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে স্থাপন করতে যাচ্ছে।

পদ্মা সেতু পাল্টে দেবে মাওয়া প্রকল্প এলাকার চেহারা। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার পর্যটন খাতে যা যোগ করবে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রকল্প এলাকায় নির্মিত সার্ভিস এরিয়াগুলোর কাজ শেষে সাধারণের জন্য খুলে দেয়া হলে তার সুফল পাবেন দেশের পর্যটনপ্রেমীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মাসের মধ্যেই সার্ভিস এরিয়া নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এ যেন ধীরে ধীরে গড়ে উঠা এক নতুন শহর। অজস্র স্বপ্নকে বুকে নিয়ে যা জেগে উঠছে উত্তাল পদ্মা নদীর পাড়ে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত যে স্বপ্ন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দেশের অন্য জেলাগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক এগিয়ে যাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। ব্যবসা-ব্যানিজ্য প্রসার হবে। দেশের অথর্নীতি আয় বাড়বে।’ এর কাজের সুবিধার জন্য মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর এবং মাদারীপুরে গড়ে তোলা হয়েছে তিনটি সার্ভিস এরিয়া।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, পিলার – ৩৭ এর বেস কংক্রিটিং এর কাজ আজ শেষ হলো। ধন্যবাদ সংশ্লিষ্টদের।

এর আগে এক ও দুই নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় মূল সেতু, নদী শাসন প্রকল্প ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা থাকছেন। ৩ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় থাকার ব্যবস্থা হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের। আপাতত এই ৩টি সার্ভিস এরিয়া দেশি বিদেশি প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞদের আবাসন এবং গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হলেও এগুলোকে ঘিরেই পদ্মার দু’পাড়ে গড়ে উঠছে পর্যটন সম্ভাবনা। বিশেষ করে ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়াটিকে পুরোপুরি গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটন বান্ধব করে। ৩ টি সার্ভিস এরিয়া নির্মাণে সার্বিক তদারকি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেতুর কাজ শেষ হলে ৭৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে নির্মিত ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় পর্যটকদের জন্য থাকবে আবাসনের পাশাপাশি আধুনিক সব সুবিধাই।

এদিকে ভারী ভারী নির্মাণ যন্ত্র দিয়ে চলছে পাথর ভাঙ্গা, মাটি কাটা, মাটি ভরাট করা, রাস্তা সমান করার কাজ। ওয়েল্ডিং এর আলোর ঝলকানি আর ভারী যন্ত্রপাতির শব্দে কর্মমুখর পদ্মার পাড় পাশাপাশি অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ চলছে পুরোদুমে। এ সেতুর কাজ পর্যবেক্ষণে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষঞ্জ দল এসেছিল । এই বিশেষঞ্জ প্যানেল সেতুটির দু’দিন ধরে বৈঠক করেন । যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান থেকে বিশেষজ্ঞ টিমের অপর বিদেশী সদস্য কানাডার অস্টেন ফিল্ট ও নেদারল্যান্ড সর কারবাজাল পথে হয়ে। জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ বাংলাদেশের পাঁচ জন এবং বিদেশী ৪ জন। মোট ৯ জনের এ টিম বৈঠকে ছিলেন। নতুন গতি পেয়ে পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞে দেশী-বিদেশী প্রৃায় য় ২০ হাজার কর্মীর নিরন্তর কাজ করছেন। ২০ হাজারের ১৮ হাজার বাংলাদেশী। আর দু’হাজার বিদেশীর। এর মধ্যে ৫শ’ রয়েছে বিদেশী নারী কর্মী। পালাক্রমে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে তারা। এই ২০ হাজারের বাইরে নিরাপত্তায় রয়েছে দু’পারে ২ হাজার সেনা সদস্য। এছাড়া পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনতো রয়েছেই।

এর আগে উপজেলার পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়ায় সভাকক্ষে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু এখন স্বপ্ন নয়। এটি এখন দৃশ্যমান বাস্তব। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।’পদ্মা সেতুর অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতি মধ্যে কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৪ শতাংশ।