কালজয়ী এই গায়কের দিন দিন শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি: নষ্ট হয়ে গেছে দুই কিডনিও!

বিনোদন প্রতিবেদক ~ ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানে কন্ঠ দেন আবদুল জব্বার।গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চ মাস জুড়ে বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি গানের তালিকায় স্থান লাভ করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবে রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক পাওয়া কিংবদন্তি গায়ক আবদুল জব্বার তিন মাস ধরে অসুস্থ। এখন অসুস্থ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬২০ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন। । দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটছে। কালজয়ী এই গায়কের দুটি কিডনিই বর্তমানে নষ্ট। আছে আরও অনেক সমস্যা।

উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত আবদুল জব্বারকে দেশের বাইরে নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তার চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যরা।

আবদুল জব্বারের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। একটি কিডনি হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব। এছাড়া তার প্রেসার একেবারেই নেমে যাচ্ছে, পায়ে পানি নেই। তিন মাস হাসপাতালে শুয়ে আছেন। পিঠের অনেক স্থানে ঘা হয়ে গেছে।

আবদুল জব্বারের ছোট ছেলে বাবু জব্বার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘গত দুদিন ধরেই বাবার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। তিনি এখন কাউকে ভালো করে চিনতে পারছেন না। ডাক্তার বলেছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বাবাকে দ্রুত দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নইলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু সেই সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই অসহায়ভাবেই বাবার মৃত্যু দেখতে হবে হয়তো।’

বাবু জব্বার বলেন, ‘প্রতিদিন ইনজেকশন দিতে হচ্ছে। অনেক টাকা যাচ্ছে। হাতের সবই প্রায় শেষ। এত টাকা কোথায় পাব? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই বছর আগে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছিলেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর হাসপাতালে দেখতে এসেছিলেন। তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সাহায্য পাইনি। আমরা নিজেরাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেষ্টা করছি। পারছি না।’

দেশ স্বাধীনের জন্য আবদুল জব্বার তার কণ্ঠে বিভিন্ন গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ জীবনে এসে তার পাশে তেমন কাউকে পাচ্ছেন না বলে জানান পরিবারের লোকজন !

জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। তিনি ১৯৬২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হয়ে উঠেন। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র সংগম-এর গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৬৮ সালে এতটুকু আশা ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া “তুমি কি দেখেছ কভু” গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৬৮ সালে পীচ ঢালা পথ ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে “পীচ ঢালা এই পথটারে ভালবেসেছি” এবং ঢেউয়ের পর ঢেউ ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে “সুচরিতা যেওনাকো আর কিছুক্ষণ থাকো” গানে কণ্ঠ দেন। তার একটি কালজয়ী গান ১৯৭৮ সালের সারেং বৌ ছবির আলম খানের সুরে “ও..রে নীল দরিয়া”

কালজয়ী এই শিল্পীর বাঁচার আকুতি প্রধানমন্ত্রীর কানে কী পৌঁছাবে না !

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views