লালমোহনে জ্বিন আতঙ্কে স্কুল বন্ধের ঘোষণা!

ভোলা প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্ব: ভোলার লালমোহন উপজেলায় জ্বিন আতঙ্কে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহ ধরে ওই স্কুলের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কথিত জ্বিনের আছরে এক শিক্ষিকাসহ এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন বেলা ১২টা বাজলেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। এদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তারা আগামী ৭ দিনের জন্য স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেন।

এদিকে মেডিকেল টিমের ডাক্তাররা ঘটনাস্থল পরির্দশন করে বলেন, ‘এটা কোন জ্বিন নয়। একটি মানসিক রোগে তারা আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানান ভোলার সিভিল সার্জন।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ সিকদারসহ অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দুপুর ১২টা বাজলেই কেবল মেয়েরা প্রচন্ড মাথা ব্যথাসহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় তারা অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা বলে। এমনকি শিক্ষকদের মারধর করতেও তেড়ে আসে তারা।

প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয় অনেকে জানান, সম্প্রতি স্কুলে পিয়ন নিয়োগ নিয়ে একটা চক্রান্ত চলছে। স্কুলকে ধ্বংস করার জন্য একটি গ্রুপ এমন চক্রান্ত করছে।

লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সন্তোষ কুমার সরকারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি টিম দুপুর ১২টায় ওই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন।

এ সময় তাদের সাথে ছিলেন লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুল আরিফ, লালমোহন শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষক আফসার উদ্দিন। ঠিক দুপুর ১২ বাজার সাথে সাথেই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী জেরিন, সুমাইয়া, রেশমা, পঞ্চম শ্রেণির রোজিনা, ছোনিয়া, মুক্তা, নুরুন নাহারসহ ১৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের শরীরে খিচুনি উঠে এবং তারা অসংলগ্ন আচরণ করে সবাইকে মারতে তেড়ে আসে। এমনকি ওই সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তছলিমা বেগমও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ইতোপূর্বে একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে কোন ছাত্র অসুস্থ হচ্ছে না। এমনকি ওই স্কুলের পাশেই একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে সেখানে কোন সমস্য হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরিফ গত মঙ্গলবার থেকে ওই স্কুল ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সন্তোষ কুমার সরকার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তারা ধারণা করছে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস নামক এক ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত। গত ২ বছর আগে আফ্রিকার একটি স্কুলে এধরনের রোগ দেখা দিয়েছিল।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, মনের ভয় থেকে ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস রোগ হয়। আমরা ঢাকায় রোগ তথ্য বিভাগের সাথে কথা বলেছি। ওই বিদ্যালয়ের যেসব ছাত্রী অসুস্থ তাদের অভিভাবকদের বুঝানো হচ্ছে এটা কোন রোগ নয়। মনের ভয়। তাদের মেডিকেল টিম স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে এবং আগামী ৭ দিন পরও স্কুল খোলা তারিখে ওই বিদ্যালয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা একটু বেশি ভিতু হওয়ায় মেয়েদের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।