আগামীকাল নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার আপিলের রায়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আগামীকাল রবিবার রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য রাখা হয়েছে।

আগামীকাল রায় ঘোষণার পর জানা যাবে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দায়ে ২৬ আসামিকে নিম্ন আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় বহাল রইল কিনা?

গত ২৬ জুলাই শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করে দেয় হাইকোর্ট। এর আগে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষ ৩৩ কার্য দিবসব্যাপী শুনানি করেন। শুনানিতে র‌্যাবের তারেক সাঈদ, কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বহালের আবেদন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

তিনি বলেছিলেন, সাত খুনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত। এদের দায়িত্ব ছিলো নাগরিকের জীবন রক্ষার। কিন্তু সেটি না করে সাতজন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে প্রথমে ইনজেকশন পুশের মাধ্যমে অচেতন করে মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। এই পূর্ব পরিকল্পিত খুন ক্ষমার অযোগ্য। তিনি বলেন, যে বাহিনীর সদস্যই হোক না কেন কেউ যে আইনের ঊর্ধ্বে নয় এটাই দৃষ্টান্ত হওয়া দরকার।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাত খুন মামলায় সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। বাকি নয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ে বলা হয়, এই মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে ২৫ জনই সশস্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য। বাকিরা সাধারণ মানুষ।

এই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা কারাবন্দী তারা হাইকোর্টে আপিল করেন। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।

এরপরই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এই মামলা দ্রুত শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেয়। পরে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য মামলার সকল নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। ২৬০০ পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত করে বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষ তা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়।

এরপরই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য বেঞ্চ পুন:গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। গত ২২ মে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়।