অস্ত্রোপচারের পর আইসিইউতে মুক্তামনি

সময়ের কণ্ঠস্বর: মুক্তামনির হাতের অপারেশন শেষ হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর সে ভালো আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে এখন আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

এর আগে শনিবার সকাল ৮টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের তৃতীয় তলার অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা ওটিতে প্রবেশ করেন।

মুক্তামনির অপারেশনে অংশ নেন ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক সাজ্জাদ খোন্দকার, অধ্যাপক রায়হানা আউয়াল, দুইজন সহযোগী অধ্যাপক, সাত জন সহকারী অধ্যাপকসহ অন্যান্য চিকিৎসক এবং ঢামেক হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোজাফফর হোসনসহ আরেকজন এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের চারজন চিকিৎসক এই অস্ত্রোপচারে অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন মুক্তামনির বাবা ইব্রাহীম হোসেন ও মা আসমা খাতুন। মুক্তামনির অস্ত্রোপচার শুরুর পর থেকেই অঝোরে কাঁদছেন তার বাবা-মা। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন, আত্মীয়-স্বজনরাও ফোন দিচ্ছেন তাদের। তবে এক মুহূর্তের জন্যেও বন্ধ হয়নি বাবা-মা’র চোখের পানি।

অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার সময় মুক্তা তার বাবা-মা’কে বলেন, তোমরা আমার জন্য চিন্তা করো না। প্রধানমন্ত্রী আমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাকে এখন তাদের ভালো করতেই হবে। এ সময় মুক্তা দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

এসময় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন মুক্তামনির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনারা কোনও চিন্তা করবেন না। আল্লাহকে ডাকেন। আমরা কাল নির্ঘুম কাটিয়েছি। কিভাবে অপারেশন হবে তা নিয়ে আমরা সবাই কথা বলেছি। পুরো দেশের মানুষের দৃষ্টি মুক্তামনির দিকে আছে। সবাই তার জন্য দোয়া করছে।’

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট মুক্তার ডান হাতের বায়োপসি সম্পন্ন হয়। ৮ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, মুক্তার হাতের একাধিক অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে। তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা দরকার। একপর্যায়ে তার বাম হাত কেটে ফেলতে হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে অবশ্য তার চিকিৎসা নিয়ে বাবা-মার সঙ্গে কথা বলেন চিকিৎসকরা। হাত কাটার আশঙ্কার কথা জানান। উত্তরে মুক্তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন ও মা আসমা খাতুন বলেন, আপনারা মুক্তার জীবন রক্ষায় যা যা প্রয়োজন করুন।