ঠাকুরগাঁওয়ে ভারি বর্ষণ ও বন্যায় প্লাবিত: ‘৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ, আটকে পড়েছে চার শতাধিক মানুষ’- নিখোঁজ ১

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: গত দুইদিনের অবিরাম ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তলিয়ে গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ উপজেলার কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর।

শনিবার ভোর থেকে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টির কারণে প্লাবিত ঘর-বাড়িতে প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ আটকে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন। এদিকে ঠাকুরগাঁও শহরের ডিসি বস্তি হতে শোভন (২২) নামে একজন বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বলে জানা যায়।

জেলা প্রশাসক ও ফায়ার সার্ভিস বাড়িতে আটককে পড়া মানুষকে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এ ছাড়া দূরের কিছু মানুষ আটককে পড়ায় রংপুর সেনাবাহিনী সহযোগিতা চেয়েছেন বলে গনমাধ্যম কর্মীদের জনান জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।

প্লাাবিত মানুষ গুলো শিশু, ঘর-বাড়ি, আসবাবপত্র, গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকে রাস্তায় পাশে গবাদি পশুসহ আশ্রয় নিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও শহরের আশেপাশের কয়েকশত’ পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু ও নিরাপদ ৮টি স্থানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক সূত্র জানা যায়। প্রায় ১ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকার ফসলাদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রতিয়মান।

শহরের বেশিরভাগ অঞ্চল প্লাবিত হঠাৎপাড়া, ডিসি বস্তি, সরকার পাড়া ও খালপাড়া, সদর উপজেলার আকচা, রায়পুর, মোহাম্মদপুর, সালন্দর, শুকানপুকুরী, বেগুন বাড়ি, জগন্নাথপুর, রহিমানপুর, জামালপুর, রুহিয়া, বালিয়া, রাজাগাঁও, গড়েয়া, আখানগড়সহ বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, হরিপুর ও রাণীংশকৈল উপজেলার আশেপাশের অনেক এলাকার বাড়ি-ঘর এখনো পানির নিচে। অনেক বাড়িতে এখনো লোকজন আটকে পড়েছেন। মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টাঙ্গন নদীর পানি বিপদ সীমার ৪০ মিলি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বানভাসা বাড়ি গুলো হতে শত-শত জিনিস পত্র ভেসে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, গত দুই দিনের ভারি বর্ষণে জেলার প্রায় ৫ হাজার ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। বাকিদের উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগতিা চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে দূগর্তদের জেলায় প্রায় শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার জায়গা ও ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন ও ইএসডিও এর নির্বাহী পরিচালক ড. শহিদুজ্জামানসহ অনেকেই বন্যায় প্লাবিত মানুষের পার্শ্বে দাড়িয়েছেন।

এ রিপোট লেখা পর্যন্ত জেলায় এখনো ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে খেটে খাওয়া মানুষ গুলো পড়েছে বিপাকে। তরুণ প্রজন্মের সংবাদ কর্মীরা ভারী বর্ষণে জীবন বাজি রেখে অসহায় মানুষের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।