গরুর মৃত্যুতে বিজেপি নেতা গ্রেফতার

সময়ের কণ্ঠস্বর: গো-রক্ষার নামে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের দাপাদাপি বেড়ে গেছে। এর মধ্যে দেশটির কয়েক জায়গায় গরু ও গো-মাংস সংক্রান্ত ঘটনায় কয়েকজনকে পিটিয়ে হত্যাও করেছে উগ্র ধর্মান্ধরা। আর এক্ষেত্রে অভিযোগের তীর বরাবরই বিজেপি ঘেঁষা উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দিকে যাচ্ছে। তবে এবার গরু কাণ্ডে বিপদে পড়েছেন খোদ বিজেপির এক নেতা।

জানা গেছে, ছত্তীসগঢ়ের দুর্গে একটি গোশালায় গত তিনদিনে ‘অনাহার ও অপুষ্টি’তে ২৭টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। গোশালাটি স্থানীয় বিজেপি নেতা হরিশ বর্মার। ‘ছত্তীসগঢ় রাজ্য গো সেবা আয়োগ’ এর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে বর্মাকে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অনাহার ও অপুষ্টির জন্যই মারা গিয়েছে গরুগুলি। যদিও বর্মা দাবি করেন, গত ১৫ আগস্ট দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে গরুগুলোর।

রাজপুরের ওই গোশালায় প্রায় ৫০০টি গরু রয়েছে। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত গোশালাটি দেখাশোনা করেন ওই বিজেপি নেতাই। ‘ছত্তীসগঢ় রাজ্য গো সেবা আয়োগ’ এর অভিযোগ, সরকারি সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও গরুগুলোর ঠিক মতো দেখাশোনা করতেন না বর্মা।

বিজেপি নেতা সেবা আয়োগের অভিযোগকে অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, সরকারি সাহায্য পাচ্ছেন বলে বারবার বিষয়টি জানিয়েছিলেন সেবা আয়োগকে।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কংগ্রেস দাবি করছে, সংখ্যাটা আদৌ ২৭ নয়, অপুষ্টিতে গত তিনদিনে ওই গোশালায় ৩০০ গরুর মৃত্যু হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসক সঞ্জয় অগারওয়াল জানান, রাজপুরের ওই গোশালায় গত তি দিনে ২৭টি গরুর মৃত্যু হয়েছে ঠিকই, তবে কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। গরুর মৃত্যুর খবর পেয়েই সেখানে পশু চিকিত্সকের একটি দল পাঠানো হয়। গরুগুলোর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কী কারণে এতগুলো গরুর মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।