হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নজরুলের পরিবার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জনের সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম (শহীদ চেয়ারম্যান)।

মঙ্গলবার বিকালে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

আপিল আদালতের রায়ে অন্য ১১ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

নজরুলের শ্বশুর বলেন, ‘মূল আসামিদের জজকোর্টে ফাঁসি হয়েছে হাইকোর্টেও ফাঁসি বহাল রয়েছে। আমরা এই রায়ে খুশি। এখন আমরা চাই দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হবে।’

ফাঁসির আসামি হলেও নূর হোসেনকে কনডেম সেলে না রেখে সাধারণ কয়েদিদের সেলে রাখা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতায় নূর হোসেনকে ভারত থেকে এনে আদালতে দাঁড় করিয়েছেন। জজকোর্টের রায়ে তার ফাঁসির দণ্ড হয়েছে। তার থাকার কথা কনডেম সেলে। কিন্তু তাকে রাখা হচ্ছে সাধারণ কয়েদিদের সেলে।’ নূর হোসেনের বেলায় কারাবিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।

ঘটনার এক দিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যৃদণ্ড দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় দেয়। এ মামলার ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।