বলিউডের প্রথম নায়িকা হিসেবে তিন তালাকের শিকার হয়েছিলেন মীনা কুমারী!

বিনোদন ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বরঃ তিন তালাকের অবসান চেয়ে আবেদন করেছিলেন মুসলিম মহিলা ও মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যরা। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত তিন তালাক নিয়ে ঐতিহাসিক রায় জানিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জেএস খেহরের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে তিন তালাক প্রথা অসাংবিধানিক।
এই তিন তালাক প্রথার জেরেই বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়েছিল বলিউড অভিনেত্রী মীনা কুমারীর। অভিনেত্রীর স্বামী পরিচালক কমল আমরোহী তাঁকে তিন বার তালাক বলে ফেলেছিলেন। তিন তালাক উচ্চারণের ফলেই ‘নিকাহ’ ভেঙে গিয়েছিল ষাট-এর দশকে।

‘তামাশা’ ছবির সেটে অভিনেতা অশোক কুমার মীনা কুমারীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন কমল আমরোহীর। এর পরই নিজের ‘আনারকলি’ ছবির জন্য মীনা কুমারীকে বেছে নেন আমরোহী। ছবির শুটিং শুরু হওয়ার আগেই একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন মীনা কুমারী।

তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান আমরোহী। মীনা কুমারী জানতে চান, দুর্ঘটনার পরেও তিনিই কি ‘আনারকলি’ ছবির নায়িকা? কমল আমরোহী নাকি একটি পেন দিয়ে তাঁর হাতে লিখে দিয়েছিলেন ‘মেরি আনারকলি’। অর্থাৎ ‘আমার আনারকলি’।
১৯৫২ সালে গোপনে ‘নিকাহ’ হয় দু’জনের।

যদিও দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির জেরেই, প্রায় ১২ বছর পর ১৯৬৪-তে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের। শোনা যায়, রাগের বশেই নাকি এক দিন তিন বার তালাক বলে ফেলেছিলেন আমরোহী। যদিও পরে মীনা কুমারীকে ফিরে পেতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু তিন তালাক প্রথায় সেটি কার্যত অসম্ভব ছিল। হালালা প্রথার নিয়ম অনুযায়ী, জিনাত আমানের বাবা আমান উল্লাহ খানের সঙ্গে ‘নিকাহ’ করতে হত মীনার। তাঁর সঙ্গে পারস্পরিক সহমতে বিচ্ছেদের পর, ফের আমরোহীর সঙ্গে ‘নিকাহ’ হতে পারত মীনা কুমারীর। যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়েছিল কিনা জানা যায়নি।